শুক্রবার ● ২ অক্টোবর ২০২৬

জুমার দিনের ফজিলত ও বরকতময় আমল

হোম » ইসলামী জীবন » জুমার দিনের ফজিলত ও বরকতময় আমল
শুক্রবার ● ২ অক্টোবর ২০২৬


 

প্রতীকী চিত্রটি সংগৃহীত

মুহাম্মাদ রুহুল্লাহ শাজুলি

 

সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। মুমিনের জীবনে আত্মশুদ্ধি, ইবাদত-বন্দেগি এবং আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত লাভের বিশেষ সুযোগ নিয়ে আসে এ দিন। হাদিসে জুমার দিনকে সব দিনের সর্দার বলা হয়েছে। তাই এ দিনের গুরুত্ব অনুধাবন করে বিশেষ আমলে মনোযোগী হওয়া প্রত্যেক মুমিনের জন্য কল্যাণকর।

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মহান। এ দিনে হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা, পৃথিবীতে অবতরণ এবং ইন্তেকালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। এ দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময়ও রয়েছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল


আগেভাগে মসজিদে যাওয়া

জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো নির্ধারিত সময়ের আগে মসজিদে পৌঁছানো। হাদিসে জুমার দিন প্রথম দিকে মসজিদে আগমনকারীদের জন্য বিশেষ সওয়াবের কথা বলা হয়েছে। ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার আগ পর্যন্ত ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় আগতদের নাম লিখতে থাকেন। তাই খুতবার ঠিক আগে মসজিদে পৌঁছানোর অভ্যাসের পরিবর্তে আগে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

 

পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

জুমার দিনে গোসল করা, মিসওয়াক করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করার প্রতি হাদিসে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে মসজিদে যাওয়াও এ দিনের সৌন্দর্য ও শিষ্টাচারের অংশ।

 

খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা

জুমার খুতবা চলাকালে নীরব থাকা এবং মনোযোগ দিয়ে তা শোনা গুরুত্বপূর্ণ আমল। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি উত্তমভাবে পবিত্র হয়ে জুমায় উপস্থিত হয়ে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে এবং অনর্থক কাজে লিপ্ত হয় না, তার জন্য বিশেষ ক্ষমার সুসংবাদ রয়েছে।

 

সুরা কাহাফ তিলাওয়াত

জুমার দিনের বরকতময় আমলগুলোর মধ্যে সুরা কাহাফ তিলাওয়াত অন্যতম। হাদিসে জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠকারীর জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূরে আলোকিত থাকার কথা বর্ণিত হয়েছে।

 

দরুদ পাঠ ও দোয়া

জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত অনুসন্ধান করাও এ দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল। হাদিসে এমন একটি সময়ের কথা বলা হয়েছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করলে তা দানের সুসংবাদ রয়েছে।

 

এক জুমা থেকে আরেক জুমা

 

জুমার দিনের অন্যতম বড় ফজিলত হলো এক জুমা থেকে আরেক জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদ। তবে হাদিসে এর সঙ্গে কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার শর্তও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অতএব, জুমার দিন শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদে উপস্থিত হওয়ার দিন নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, তওবা, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বিশেষ সুযোগ। নামাজ আদায়, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ ও দোয়ায় দিনটিকে সমৃদ্ধ করা উচিত।

 

আল্লাহ তাআলা আমাদের জুমার দিনের মর্যাদা উপলব্ধি করে শরিয়ত নির্দেশিত আমলগুলো যথাযথভাবে পালনের তৌফিক দান করুন। আমিন।

 

লেখক: ইসলামিক স্কলার, মুফাচ্ছিরে কুরআন ও পীরসাহেব, শাজুলিয়া দরবার শরিফ

বাংলাদেশ সময়: ১১:২৩:২৭ ● ২৪ বার পঠিত