সোমবার ● ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গৌরনদীতে ধর্ষণ মামলার বাদীকে আপসে চাপ; চাঁদাবাজির অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা

হোম » বরিশাল » গৌরনদীতে ধর্ষণ মামলার বাদীকে আপসে চাপ; চাঁদাবাজির অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা
সোমবার ● ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

গৌরনদীতে ধর্ষণ মামলার বাদীকে আপসে চাপ; চাঁদাবাজির অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)

 

ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর মামলাটি আপস-মীমাংসার জন্য বাদীকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশালের গৌরনদীতে। আপসে রাজি না হওয়ায় তাকে গালিগালাজ, জীবননাশের হুমকি ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে হয়রানির চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

 

ভুক্তভোগী নারী জানান, গত বছর গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পশ্চিম বার্থী এলাকায় এ ঘটনার সূত্রপাত। তিন সন্তানের জননী ওই নারীর অভিযোগ, তার স্বামী সৌদি আরবে থাকার সুযোগে প্রতিবেশী হালিম সন্ন্যামাত তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলেন। পরে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে প্রায় দুই মাস ২২ দিন আটকে রেখে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।

 

বাদিনীর ভাষ্য, এ সময় ভয় দেখিয়ে তার ভিডিও ধারণ করা হয় এবং ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে নানা চাপের মুখে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আইনের আশ্রয় নেন।

 

এ ঘটনায় তিনি বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে বরিশাল পিবিআই। বাদিনীর দাবি, তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়েছে।

 

মামলার পর আত্মগোপনে চলে যান হালিম সন্ন্যামাত। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গৌরনদী থানা পুলিশ মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় গত ১ মে দিবাগত রাতে শ্রীনগরের দোকাছি গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন বলে জানান বাদিনী।

 

বাদিনীর অভিযোগ, আসামি গ্রেপ্তারের পর থেকেই তার স্বজনরা মামলাটি আপস-মীমাংসার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও জীবননাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলার চেষ্টা চলছে।

 

বাদিনী বলেন, ‘আমি মামলাটি আপস করতে রাজি না হওয়ায় এখন আমার বিরুদ্ধেই ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আমাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা কথা প্রচার করা হচ্ছে। আমি চাই, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দেখা হোক এবং আমাকে যেন কোনোভাবে হয়রানি করা না হয়।’

 

নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে তিনি গৌরনদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলেও জানান তিনি।

 

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হালিম সন্ন্যামাতের পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলে ঘর তালাবদ্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের কাউকেই সেখানে পাওয়া যায়নি।

 

গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, ‘মামলার বাদীকে কেউ হয়রানি করলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৭:১৪ ● ৯১ বার পঠিত