রবিবার ● ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাঙ্গাবালীতে সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ
হোম » পটুয়াখালী » রাঙ্গাবালীতে সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে জমি নিয়ে বিরোধের মামলায় ঘুষ নিয়ে ভুয়া ও বানোয়াট তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আনছার উদ্দীনের বিরুদ্ধে। মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন এ অভিযোগ করেছেন।
রবিবার দুপুরে রাঙ্গাবালী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের নয়াভাঙ্গুনি গ্রামের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন এ অভিযোগ করেন।
মোশাররফ হোসেনের দাবি, নয়াভাঙ্গুনি গ্রামে ক্রয়সূত্রে পাওয়া সাড়ে ৬৭ শতাংশ জমি তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। এর মধ্যে ৯ শতাংশ জমি নিয়ে প্রতিবেশী মাকসুদা বেগমের সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে।
মোশাররফের অভিযোগ, মাকসুদা বেগম কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল লোকজন নিয়ে তার ক্রয় করা ও রেকর্ডভুক্ত জমি জোরপূর্বক দখল করে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে সেখানে ভবনের গাঁথুনিও দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি আদালতে মামলা করলে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এ ঘটনায় গত ১৫ জুন মাকসুদা বেগম, তার সহযোগী নুর আলম প্যাদা ও রুনু আক্তারের বিরুদ্ধে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন মোশাররফ। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদালত নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১ জুলাই রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. হামিদুল হক বাচ্চু প্রতিবেদন দেন। পরে বিবাদীপক্ষ পুনঃতদন্তের আবেদন করলে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আনছার উদ্দীনকে।
মোশাররফের অভিযোগ, ২৫ আগস্ট স্বাক্ষরিত সার্ভেয়ারের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা হয়নি। প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এরপরও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিবাদীপক্ষের পক্ষে মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মোশাররফ বলেন, সার্ভেয়ারের প্রতিবেদনে বিবাদীপক্ষকে বিরোধীয় জমিতে টিনশেড ঘর, ভবন ও বাগান করে ভোগদখলে থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে বিবাদীপক্ষের কোনো ভবন নেই। জমিতে থাকা বাগান ও টিনশেড ঘর তার নিজের। ২০০৭ সাল থেকে তিনি সেখানে বসবাস করছেন।
তার দাবি, বিবাদীপক্ষের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘর রয়েছে। তবে সেখানে তারা বসবাস করেন না এবং ঘরটি বিরোধীয় জমির মধ্যেও নয়। এ ছাড়া বিবাদীপক্ষ ১৯ শতাংশ জমি কেনার দাবি করলেও এর পক্ষে কোনো কাগজপত্র উপস্থাপন করেনি। মাকসুদা বেগম ১০ শতাংশ জমি কিনেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন, তবে ওই জমি বিরোধীয় অংশের মধ্যে নয় বলেও দাবি করেন মোশাররফ।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আনছার উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি পটুয়াখালী আছি। আসতেছি, তারপর কথা বলব।’
এরপর অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য আর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫০:১৮ ● ২১ বার পঠিত
