রবিবার ● ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরগুনায় ধর্ষণচেষ্টা মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ

হোম » বরগুনা » বরগুনায় ধর্ষণচেষ্টা মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ
রবিবার ● ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

বরগুনায় ধর্ষণচেষ্টা মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনায় ধর্ষণচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রায় দুই মাসেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এক প্রবাসীর স্ত্রী। উল্টো মামলা তুলে নিতে আসামিরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ওই নারী। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার স্বামী ওমানে থাকেন। তাদের ছেলে স্থানীয় ‘জান্নাতুল বাকি’ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ও প্রতিবেশী মো. ইসমাইল হোসেন (৩৮) দীর্ঘদিন ধরে তাকে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় ইসমাইল তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, গত ২৬ জুলাই সন্ধ্যার পর বরগুনা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেজি স্কুল সড়কের আফিয়া মঞ্জিলে তার ঘরে প্রবেশ করেন ইসমাইল হোসেন। সেখানে তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়। তিনি বাধা দিয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে ইসমাইলের স্ত্রী মোছা. নুসরাত ঘটনাস্থলে এসে তার স্বামীকে ছাড়িয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।

 

এ সময় নুসরাত ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি সোনার চেইন গলা থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। পরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেদওয়ান এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

 

পরে তার বাবা মো. বাবুল মিয়া ও চাচা আবুল মল্লিক তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।

 

ওই নারী বলেন, ঘটনার পর তার বাবা বাদী হয়ে ২৭ জুলাই বরগুনা সদর থানায় মামলা করেন। কিন্তু মামলা দায়েরের পরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমনকি তারা তার শ্বশুরের বাসায় গিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, মামলা করার পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। প্রভাব খাটিয়ে তারা মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তার আশঙ্কা। এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার উপপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মামলার আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫৯:০৩ ● ২১ বার পঠিত