শনিবার ● ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কলাপাড়ায় ৬৫ বছর দখলে থাকা জমির বাড়িতে হামলা, মাছের ঘের লুটের অভিযোগ
হোম » পটুয়াখালী » কলাপাড়ায় ৬৫ বছর দখলে থাকা জমির বাড়িতে হামলা, মাছের ঘের লুটের অভিযোগ
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দীর্ঘ ৬৫ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমির বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মাছের ঘের থেকে প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ৮২ বছর বয়সী আবদুল বারেক হাওলাদার।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
আবদুল বারেক হাওলাদার বলেন, তিনি মহিপুর থানার বেতকাটা চর গ্রামের বাসিন্দা ও ভূমিহীন কৃষক। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে সেটেলমেন্ট কেস নম্বর ৩২৭কে/১৯৫৪-৫৫ এবং মিস কেস নম্বর ১৬১কে/১৯৬৬-৬৭-এর মাধ্যমে কলাপাড়া উপজেলার ৩৮ নম্বর জে এল সোনাপাড়া মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ২৮৩৪ নম্বর দাগে ৭ দশমিক ০১ একর জমি কায়েমী বন্দোবস্ত পান। ওই জমির বার্ষিক খাজনা নির্ধারণ করা হয় ২২ টাকা ৫০ পয়সা।
তার দাবি, সরেজমিনে জমির দখল বুঝে পাওয়ার পর সেখানে বসতঘর, পুকুর ও বাগান করেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের পাশাপাশি নাল জমিতে চাষাবাদ ও মাছের ঘের করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।
আবদুল বারেকের অভিযোগ, মাঝেরপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম, ফোরকান, ফারুক, নেছার উদ্দিন, বেতকাটা গ্রামের আবদুর রহিম হাওলাদার, সোনা মিয়া, রুবেল হাওলাদার, বেল্লাল, নয়ন এবং মোনসাতলী গ্রামের শহিদুল ইসলাম ওই জমি বৌলতলী মৌজার দাবি করে ২০১২ সালে তার ওপর হামলা করেন। এ ঘটনায় তিনি পটুয়াখালী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
তিনি আরও বলেন, জমি নিয়ে ২০০৭ ও ২০১৪ সালে কলাপাড়া সহকারী জজ আদালতে দুটি দেওয়ানি মামলা করেন। ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালত তার পক্ষে রায় দেন। পরে বিবাদীপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি আপিল ৪৬/১৮ ও ৪৭/১৮ দায়ের করে। আপিল মামলায় নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল হলে তিনি হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন ৩০৪৭/১৯ ও ৩০৪৮/১৯ দায়ের করেন। ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের আদেশে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশের মেয়াদ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাড়ানোর নির্দেশ দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
আবদুল বারেকের অভিযোগ, ওই মামলার বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ তার কাছে ২০ লাখ টাকা ও ১ দশমিক ৫৩ একর জমি দাবি করে। তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৩০ জুন তার বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ ঘটনায় তিনি কলাপাড়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫৬৪/২৬ ও ৬২৫/২০২৬ নম্বর মামলা করেন।
তার অভিযোগ, আদালত মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে থানার উপপরিদর্শক জাকির হোসেনসহ পুলিশের দুই সদস্যকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে উৎকোচের বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং এখন পর্যন্ত আইনগত ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আবদুল বারেক আরও বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠি, সোটা, খোন্তা, কোদাল ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে বসতঘর ভাঙচুর করে। পরে মাছের ঘেরের বাঁধ কেটে প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিষয়টি জানানো হলেও তারা প্রতিপক্ষের পক্ষ নিয়ে জমি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন বলেও অভিযোগ করেন আবদুল বারেক। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন বলে জানান।
তবে আবদুল বারেকের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষের শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। তিনি আমাদের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যের কাছে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতা বাবুল হাজীর কাছে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি এখন তদন্তাধীন।’
শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন সিকদার এর আগে বিষয়টি নিয়ে সালিশ করেছেন। তার দাবি, আবদুল বারেকের প্রায় দেড় একর জমির কার্ড রয়েছে। অথচ তিনি ৭ দশমিক ০১ একর জমি দাবি করছেন। প্রথম কার্ড তাদের এবং আবদুল বারেককে জরিপ করতে দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি ভুয়া পর্চা তৈরি করে জমি দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেন শহিদুল।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার উপপরিদর্শক জাকির হোসেন বলেন, ‘তিনি ১৯৫৩ সালের কার্ড দেখিয়ে ৭ দশমিক ০১ একর সম্পত্তি দাবি করছেন। কিন্তু তিনি জায়গার সীমানা নির্ধারণ করে দিতে পারছেন না। এ কারণে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে দেরি হচ্ছে।’
বাংলাদেশ সময়: ২০:০০:৪৪ ● ১৮ বার পঠিত
