বৃহস্পতিবার ● ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কয়রায় চার শতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক বিতরণ

হোম » খুলনা » কয়রায় চার শতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক বিতরণ
বৃহস্পতিবার ● ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

কয়রায় চার শতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক বিতরণকয়রায় চার শতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক বিতরণ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কয়রা (খুলনা)

 

খুলনার কয়রায় সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে চার শতাধিক অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে দুই হাজার লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের হারুনগাজীর মোড় সংলগ্ন এলাকায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের স্কেল এলএলএ প্রকল্পের যাকাত ফান্ডের আওতায় এসব ট্যাংক বিতরণ করা হয়।

 

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, কয়রা সদর ইউনিয়নে ২২৯টি এবং মহারাজপুর ইউনিয়নে ১৭১টি পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে পরিবারের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার এবং শুষ্ক মৌসুমে সুপেয় পানির সংকট কিছুটা লাঘব করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে পানির ট্যাংক তুলে দেন কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী।

 

এ সময় ইউথ সদস্য ফরহাদ হোসেন, রাসেল আহমেদ, ইউপি সদস্য জামাল ফারুক জাফরিন, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. গাজীউর রহমান এবং সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা তৈয়েবুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

কয়রা ইউনিয়নের ৬ নম্বর কয়রা গ্রামের উপকারভোগী আজিবার রহমান বলেন, একটি পানির ট্যাংক পাওয়া আমার জন্য স্বপ্নের মতো ছিল। অনেক চেষ্টা করেও ট্যাংক কিনতে পারিনি। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারের চাহিদা মেটাতে দূর থেকে পানি কিনে আনতে হতো। এখন ট্যাংকে পানি সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করতে পারব। এতে পানির কষ্টের পাশাপাশি বাড়তি খরচও কমবে।

 

মহারাজপুর ইউনিয়নের শ্যামখালী গ্রামের আমেনা খাতুন বলেন, অসুস্থ শরীর নিয়েও গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি প্রতিদিন খাবার পানি সংগ্রহ করতে হতো। পরিবার সামলানোর পাশাপাশি পানি সংগ্রহ ছিল বড় কষ্টের। ট্যাংক পাওয়ায় এখন বৃষ্টির সময় পানি সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করতে পারব।

 

উপজেলা ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সভাপতি রাসেল আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় কয়রার সাতটি ইউনিয়নেই লবণাক্ততার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোকে দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হলে এসব পরিবারের পানির সংকট অনেকটাই কমবে। এ ধরনের প্রকল্প উপকূলীয় এ অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, উপকূলীয় কয়রায় সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহার করা গেলে নিরাপদ পানির চাহিদা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব। অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক বিতরণ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।

 

তিনি বলেন, উপকারভোগীরা ট্যাংকগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার ও সংরক্ষণ করবেন বলে আশা করছি। পাশাপাশি নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:০৩:১২ ● ১০ বার পঠিত