বৃহস্পতিবার ● ২৭ আগস্ট ২০২৬

গৌরনদীতে বেদে পল্লীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ৫ নারীসহ আহত ১৫

হোম » বরিশাল » গৌরনদীতে বেদে পল্লীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ৫ নারীসহ আহত ১৫
বৃহস্পতিবার ● ২৭ আগস্ট ২০২৬


 

গৌরনদীতে বেদে পল্লীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)

 

বরিশালের গৌরনদীতে নারীঘটিত বিরোধকে কেন্দ্র করে বেদে পল্লীর দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচ নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় চারটি বসতঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং একটি দোকানঘর ও একটি রান্নাঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।

 

বুধবার সন্ধ্যা ও রাতে এবং বৃহস্পতিবার সকালে গৌরনদী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের টরকীচর এলাকার বেদে পল্লীতে এসব ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেদে পল্লীর সরদার নাসির সরদারের মেয়ে সোনালী বেগমকে প্রায় সাত বছর আগে বেদে দিপু মিয়ার ছেলে নিলয় মিয়া বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। সম্প্রতি সোনালী বেগম তাঁর পাঁচ বছরের ছেলে কারিমকে রেখে বাবার বাড়িতে চলে গেলে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ আরও বেড়ে যায়।

 

নিলয় মিয়ার অভিযোগ, সোনালীর সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য কলহের পেছনে পরকীয়ার বিষয় ছিল। তাঁর দাবি, ওই বিরোধের জের ধরে বুধবার সন্ধ্যা ও রাতে তাঁর শ্বশুর নাসির সরদার ও তাঁর লোকজন তাঁদের রান্নাঘর ও দোকানঘরে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে নাসির সরদার বলেন, ‘আমার মেয়েকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দিপু মিয়া ও জামাতা নিলয় বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে দিপুর লোকজন আমার ও আমার বোন নাসরিনের ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করেছে।’

 

অন্যদিকে দিপু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে নাসির সরদারের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমার ও আমার বড় ভাই ইত্তি মিয়ার ভবনে হামলা চালায়। তারা ঘরে ঢুকে দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং মালামাল নিয়ে যায়।’

 

তিনি আরও বলেন, হামলায় বাধা দিলে তাঁর ছোট ভাই চঞ্চল (৩২), বড় ভাই ইত্তি (৪৫), ভাতিজা আরিফ সরদার (৩৫), জিহাদ (১২), মিলি বেগম (২৬), মিঠু মিয়া (৫০), টুনি বেগম (২৭) ও লুৎফুন নেছা (৬৫) আহত হন। তাঁদের মধ্যে চঞ্চল ও জিহাদকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

এ ঘটনায় দিপু মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বাদী হয়ে গৌরনদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিক হাসান রাসেল বলেন, ‘খবর পেয়ে বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সাবিনা ইয়াসমিন বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ২১:৩৬:৪৪ ● ৪১ বার পঠিত