শনিবার ● ২২ আগস্ট ২০২৬

মশার উৎপাত কমাতে ঘরে যেসব উপায় কাজে আসতে পারে

হোম » লাইফস্টাইল » মশার উৎপাত কমাতে ঘরে যেসব উপায় কাজে আসতে পারে
শনিবার ● ২২ আগস্ট ২০২৬


 

কয়েল ছাড়াই ঘরকে মশা-মুক্ত রাখার কার্যকরী উপায়

সাগরকন্যা লাইফস্টাইল ডেস্ক

গরম ও বর্ষার মৌসুমে ঘরে-বাইরে মশার উৎপাত বেড়ে যায়। মশার কামড় শুধু বিরক্তির কারণ নয়, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই মশা তাড়ানোর পাশাপাশি এর বংশবিস্তার বন্ধ করাও জরুরি।

 

মশা নিয়ন্ত্রণে বাজারের বিভিন্ন পণ্য ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু সহজ ও তুলনামূলক নিরাপদ ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তবে কোনো ঘরোয়া পদ্ধতিকে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের নিশ্চিত উপায় হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

 

জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলুন

 

মশা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, উঠান, ফুলের টবের নিচের পাত্র, পরিত্যক্ত বোতল, বালতি, ডাবের খোসা কিংবা অন্য কোনো পাত্রে পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করুন।

 

বিশেষ করে এডিস মশা অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও বংশবিস্তার করতে পারে। তাই শুধু ঘর পরিষ্কার রাখলেই হবে না, বাড়ির আশপাশেও কোথাও পানি জমে আছে কি না তা নিয়মিত খেয়াল করতে হবে।

 

জানালা-দরজায় মশার জাল ব্যবহার করুন

 

ঘরে মশা ঢোকা ঠেকাতে জানালা ও দরজায় মশার জাল বা নেট ব্যবহার করা কার্যকর ব্যবস্থা। সন্ধ্যার পর দরজা-জানালা অপ্রয়োজনে খোলা না রাখাও ভালো।

 

ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করলে মশার কামড় থেকে সুরক্ষার বাড়তি ব্যবস্থা পাওয়া যায়। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে মশারি বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে।

 

ফ্যান চালু রাখুন

 

মশা তুলনামূলকভাবে দুর্বল উড়ুক্কু। ফ্যানের বাতাস তাদের উড়তে ও মানুষের কাছে পৌঁছাতে বাধা দিতে পারে। তাই ঘরে বসে থাকা বা ঘুমানোর সময় ফ্যান চালু রাখা মশার কামড়ের ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

 

তবে শুধু ফ্যানের ওপর নির্ভর না করে মশারি, জানালার জাল এবং অন্যান্য প্রতিরোধব্যবস্থাও ব্যবহার করা উচিত।

 

মশা প্রতিরোধী রিপেলেন্ট ব্যবহার করতে পারেন

 

মশা থেকে সুরক্ষার জন্য ত্বকে ব্যবহারের উপযোগী নিবন্ধিত মশা প্রতিরোধী রিপেলেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। পণ্যের গায়ে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে।

 

শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী কোন রিপেলেন্ট ব্যবহার নিরাপদ, তা পণ্যের নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। চোখ, মুখ বা ক্ষতস্থানে কোনো রিপেলেন্ট লাগানো উচিত নয়।

 

ঘরের চারপাশ পরিষ্কার রাখুন

 

ঝোপঝাড়, আবর্জনা ও পরিত্যক্ত জিনিসপত্রের কারণে বাড়ির আশপাশে মশার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখুন। ফুলের টবের নিচের পানি ফেলে দিন এবং যেসব পাত্রে পানি জমতে পারে সেগুলো উল্টো করে রাখুন।

 

নিম ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

 

নিম, পুদিনা, লেমনগ্রাস, সিট্রোনেলা তেলসহ কিছু উদ্ভিদজাত উপাদানের মশা প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা রয়েছে। তবে এগুলো ব্যবহার করলেই ঘর পুরোপুরি মশামুক্ত হয়ে যাবে- এমন নিশ্চয়তা নেই।

 

বিশেষ করে কোনো তেল সরাসরি ত্বকে ব্যবহারের আগে অ্যালার্জি বা ত্বকের সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। শিশুদের ত্বকে এসব উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

 

ধোঁয়া তৈরি করে মশা তাড়ানোর পদ্ধতিতে সতর্কতা

 

নিমপাতা, চা-পাতা, নারিকেলের আঁশ বা অন্যান্য উপাদান পুড়িয়ে ধোঁয়া তৈরি করে মশা তাড়ানোর প্রচলন রয়েছে। কিন্তু ঘরের ভেতর যেকোনো কিছু পোড়ালে ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম কণা তৈরি হয়, যা শ্বাসতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে এমন ধোঁয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।

 

একই কারণে কয়েল বা ধূপ ব্যবহার করলেও ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা উচিত। মশা তাড়াতে গিয়ে ঘরের বাতাস দূষিত করা ঠিক নয়।

 

কেরোসিন বা অনিরাপদ রাসায়নিক ব্যবহার করবেন না

 

মশা তাড়ানোর জন্য ঘরে কেরোসিন তেল স্প্রে করা বা বিভিন্ন রাসায়নিকের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা বিপজ্জনক হতে পারে। এতে আগুন লাগার ঝুঁকির পাশাপাশি শ্বাসতন্ত্র ও ত্বকের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই এ ধরনের অনিরাপদ ঘরোয়া পদ্ধতি এড়িয়ে চলাই ভালো।

 

পোশাকেও নজর দিন

 

মশার কামড় এড়াতে বাইরে যাওয়ার সময় শরীর যতটা সম্ভব ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরা ভালো। ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের পোশাক ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে মশার উপদ্রব বেশি এমন এলাকায় সন্ধ্যার পর শরীরের খোলা অংশ কম রাখা উচিত।

 

শুধু মশা তাড়ালেই হবে না

 

মশা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিতভাবে এর প্রজননস্থল ধ্বংস করা। ঘরে মশা মারার পাশাপাশি বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, জানালা-দরজায় জাল ব্যবহার, প্রয়োজন অনুযায়ী মশারি ও রিপেলেন্ট ব্যবহার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে মশার উৎপাত অনেকটাই কমানো সম্ভব।

 

মশার কামড় এড়ানোর পাশাপাশি জ্বর, শরীরব্যথা, মাথাব্যথা, র‍্যাশ বা অন্যান্য অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ মশাবাহিত রোগের ক্ষেত্রে দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ সময়: ৮:০৭:১৬ ● ১১৬ বার পঠিত