বৃহস্পতিবার ● ৬ আগস্ট ২০২৬

বরগুনায় চাচা শ্বশুরদের হামলায় জামাতা নিহত, পলাতক দুই অভিযুক্ত

হোম » বরগুনা » বরগুনায় চাচা শ্বশুরদের হামলায় জামাতা নিহত, পলাতক দুই অভিযুক্ত
বৃহস্পতিবার ● ৬ আগস্ট ২০২৬


বরগুনায় চাচা শ্বশুরদের হামলায় জামাতা নিহত, পলাতক দুই অভিযুক্তসাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

বরগুনার সদর উপজেলায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে চাচা শ্বশুরদের হামলায় মো. ফোরকান (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত শ্বশুরকে দেখতে গিয়ে স্ত্রীসহ হামলার শিকার হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ফোরকানের স্ত্রীসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। হামলার পর অভিযুক্ত দুই চাচা শ্বশুর জুয়েল মোল্লা ও নাসির মোল্লা আত্মগোপনে রয়েছেন।

ঘটনাটি বুধবার সকালে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের বড়পোটকাখালী গ্রামে ঘটে। নিহত ফোরকান সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের বেতবুনিয়া গ্রামের শানু হাওলাদারের ছেলে।

স্বজনদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ মাস আগে শহিদ মোল্লার একটি ছাগল অপর দুই ভাইয়ের জমিতে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে শহিদ মোল্লার সঙ্গে তার ভাই জুয়েল মোল্লা ও নাসির মোল্লার বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ দায়ের করে।

তিন দিন আগে একই বিরোধের জেরে শহিদ মোল্লা প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। খবর পেয়ে মেয়ের জামাই ফোরকান ও মেয়ে জান্নাতি তাকে দেখতে যান। পরে ঘটনার বিষয়ে জানতে শ্বশুরবাড়িতে গেলে বুধবার সকালে তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ফোরকান, তার স্ত্রী এবং পরিবারের আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

নিহতের স্ত্রী জান্নাতি বলেন, আমার বাবা শহিদ মোল্লাকে কুপিয়ে আহত করার কারণ জানতে আমি ও আমার স্বামী ফোরকান আমার দুই চাচা জুয়েল মোল্লা ও নাসির মোল্লার কাছে যাই। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দা দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালান। আমার স্বামীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। প্রথমে বরগুনা, পরে বরিশালে নেওয়া হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথে বুধবার রাতে তিনি মারা যান।

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কলের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ফোরকানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এ ঘটনায় দুই দিন আগেও একটি মামলা হয়েছে। বুধবার সকালে আবার সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফোরকানের মৃত্যুর খবর পাই।

তিনি আরও বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমএইচকে/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১২:৩৩:৪৩ ● ১৩ বার পঠিত