মঙ্গলবার ● ৪ আগস্ট ২০২৬

রাঙ্গাবালীর উত্তরপত্র বিতর্কে নতুন মোড়, বরখাস্ত পরীক্ষক

হোম » লিড নিউজ » রাঙ্গাবালীর উত্তরপত্র বিতর্কে নতুন মোড়, বরখাস্ত পরীক্ষক
মঙ্গলবার ● ৪ আগস্ট ২০২৬


 

রাঙ্গাবালীর উত্তরপত্র বিতর্কে নতুন মোড়, বরখাস্ত পরীক্ষক

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী

 

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) ইনস্টিটিউটে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষার্থী সম্পৃক্ততার অভিযোগে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে মূল্যায়নের জন্য পাঠানো উত্তরপত্র শিক্ষার্থীদের হাতে থাকার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ঘটনার পর অভিযুক্ত পরীক্ষক, বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. রিপন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

 

সোমবার (৩ আগস্ট) ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চে বসে চারজন তরুণকে কয়েকটি উত্তরপত্র নিয়ে কাজ করতে এবং খাতায় লেখালেখি করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওতে থাকা চারজনই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী।

 

জানা গেছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ (বিএমটি) শাখা থেকে গত ৪ জুলাই জারি করা এক চিঠির মাধ্যমে বাংলা বিষয়ের (বিষয় কোড-২১৮১১) ৩৫০টি উত্তরপত্র প্রতিষ্ঠানটির বাংলা বিভাগের প্রভাষক ও পরীক্ষক মো. রিপন হোসেনের কাছে মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষক কোড-১৪০৫-এর আওতায় থাকা এসব উত্তরপত্র আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে মূল্যায়ন শেষে বোর্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশনা ছিল।

 

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষক নিজে উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

 

প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ মানজুর সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘পরীক্ষক নিজেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছেন। সময়ের স্বল্পতার কারণে উত্তরপত্রের মলাটে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণের কাজে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছিল। ভিডিওটি আমিও দেখেছি।’

 

অভিযুক্ত পরীক্ষক মো. রিপন হোসেন বলেন, ‘আমার খাতা দেখা শেষ হয়েছিল। শুধু উপরের নম্বরের ঘর পূরণের কাজ চলছিল। আমি বাইরে যাওয়ার সুযোগে আমার কাছে পড়তে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী অতিউৎসাহী হয়ে খাতাগুলো ধরেছিল। কে বা কারা ভিডিও করেছে জানি না। আমার দায়িত্বে কিছুটা অবহেলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকব।’

 

তবে ভিডিওতে উত্তরপত্র হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীদের লেখালেখির দৃশ্য দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বিধিমালা অনুযায়ী, কেবল মনোনীত পরীক্ষকই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে পারবেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় উত্তরপত্রের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।

 

এদিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত পরীক্ষক মো. রিপন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি উঠেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১২:০৩:৫৭ ● ২৭ বার পঠিত