রবিবার ● ২ আগস্ট ২০২৬

বর্ষায় ফিরে আসে বাউফলের বিলাতি গাবের দিন

হোম » কৃষি » বর্ষায় ফিরে আসে বাউফলের বিলাতি গাবের দিন
রবিবার ● ২ আগস্ট ২০২৬


 

বর্ষায় ফিরে আসে বাউফলের বিলাতি গাবের দিন

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)

 

বর্ষার ভেজা বিকেল, টিনের চালে বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ আর কাদামাখা গ্রাম্য পথ- এসবের সঙ্গে বাউফলের মানুষের স্মৃতিতে মিশে আছে বিলাতি গাবের স্বাদ ও ঘ্রাণ। লালচে-বাদামি মখমলি খোসার এই ফল বর্ষা এলেই ফিরিয়ে আনে শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা।

 

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া, নওমালা, কনকদিয়া, ধুলিয়া, আদাবাড়িয়া, দাসপাড়া ও তেঁতুলিয়া নদীঘেঁষা চরাঞ্চলের অনেক বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় ও উঁচু জমিতে এখনো দেখা মেলে পুরোনো বিলাতি গাবগাছের। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে এ ফলের মৌসুম। ভোরে কৃষকেরা গাছ থেকে পাকা গাব সংগ্রহ করে ঝুড়ি ও ক্রেটে করে নিয়ে আসেন স্থানীয় বাজার ও আড়তে।

 

একসময় বর্ষার ছুটিতে শিশু-কিশোরদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গাবগাছ। গাছের নিচে বসে পাকা ফল পড়ার অপেক্ষা করা, মাটিতে পড়ে থাকা গাব কুড়িয়ে নেওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খাওয়া ছিল গ্রামীণ জীবনের স্বাভাবিক আনন্দ। সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য কমে গেলেও বিলাতি গাবের ঘ্রাণ এখনো অনেকের শৈশবের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে।

 

উপজেলার চরকালাইয়া গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আবুল হাসান মুনসুর (৮২) বলেন, ‘ছোটবেলায় বর্ষা মানেই ছিল গাব পাকা। স্কুল ছুটি হলে বন্ধুরা মিলে গাছের নিচে বসে থাকতাম। তখন কেউ এই ফল বিক্রি করত না, সবাই ভাগাভাগি করে খেত। এখন বাজারে অনেক গাব দেখি, কিন্তু সেই দিনের আনন্দ আর পাই না।’

 

কালাইয়া বন্দর কাঁচাবাজারের আড়তদার মো. মিলন বলেন, মৌসুমের শুরুতে বিলাতি গাব কুড়ি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে দাম কমে ২০ থেকে ৩০ টাকায় নেমে আসে। বড় আকারের ও ভালো মানের ফলের চাহিদা বেশি। এসব গাবের একটি অংশ ঢাকার ফল ব্যবসায়ীদের কাছেও পাঠানো হয়।

 

দাসপাড়া গ্রামের কৃষক আলী হোসেন (৫৮) বলেন, আগে এ ফলের তেমন বাজার ছিল না। অনেক গাব গাছের নিচেই পড়ে নষ্ট হতো। এখন স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা তৈরি হয়েছে।

 

পুষ্টিবিদ ডা. আহসান উল ইসলাম বলেন, বিলাতি গাব শুধু স্বাদের জন্য নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, খাদ্যআঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। তবে নতুন প্রজন্মের অনেকেই এ ফল খেতে আগ্রহ দেখায় না।

 

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, এ অঞ্চলে বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় ও উঁচু জমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় বিলাতি গাব। পরিকল্পিতভাবে এর চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে এটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফলে পরিণত হতে পারে।

 

বর্ষার সঙ্গে বাউফলের মানুষের যে আবেগের সম্পর্ক, বিলাতি গাব সেই সম্পর্কেরই এক মিষ্টি স্মারক হয়ে এখনো টিকে আছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫৫:৫১ ● ১৫ বার পঠিত