শনিবার ● ১ আগস্ট ২০২৬

বৃষ্টিতে সড়ক সংস্কার, দায়সারা কাজের অভিযোগে তদন্ত দাবি

হোম » বরগুনা » বৃষ্টিতে সড়ক সংস্কার, দায়সারা কাজের অভিযোগে তদন্ত দাবি
শনিবার ● ১ আগস্ট ২০২৬


বৃষ্টিতে সড়ক সংস্কার, দায়সারা কাজের অভিযোগে তদন্ত দাবিসাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

 

বরগুনার আমতলীতে বৃষ্টির মধ্যেই পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পুনরায় সংস্কারকাজ চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের ও দায়সারাভাবে কাজ করায় সংস্কারের মাত্র ১০-১৫ দিনের মধ্যেই সড়কে আবারও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারি অর্থ অপচয় ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

আলিফ পরিবহনের চালক মো. বেল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন, পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ গত ৩০ জুন শেষ হয়। কিন্তু মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও পাথর উঠে অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ পুনরায় সংস্কার করলেও ১০ দিনের মাথায় একই অবস্থা সৃষ্টি হয়। বর্তমানে বৃষ্টির মধ্যেই আবারও ওই সড়কে সংস্কারকাজ চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, দায়সারাভাবে কাজ করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

জানা গেছে, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের ৭১ কিলোমিটার অংশ ২০০০ সালে নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও খানাখন্দ দেখা দেয়। ২০১৮ সালে আংশিক সংস্কার করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পটুয়াখালী সেতুর টোল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন অন্তত ৯১২টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এ মহাসড়ক ব্যবহার করে। এছাড়া বিপুল সংখ্যক মাহেন্দ্র, ট্রলি, সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও চলাচল করে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কটির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ে।

 

চলতি বছরের জুন মাসে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হয়। তবে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে শত শত খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সড়ক ও জনপথ বিভাগ পুনরায় মেরামত করে। কিন্তু সেই সংস্কারও টেকেনি।

 

শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, শাখারিয়া থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। অনেক স্থানে পিচ উঠে ইটের খোয়া বেরিয়ে এসেছে। বৃষ্টির মধ্যেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মীরা সেখানে সংস্কারকাজ চালাচ্ছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মিথুন কর্মকার বলেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও দায়সারাভাবে কাজ করায় এত দ্রুত সড়ক নষ্ট হয়েছে। তিনি সংস্কারকাজের মান তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

যাত্রী নাজমুল আহসান ও রাশেমুল হাওলাদার বলেন, কয়েকদিন আগেই যে সড়ক সংস্কার করা হয়েছিল, সেটি আবারও খানাখন্দে ভরে গেছে। এখন বৃষ্টির মধ্যে পুনরায় কাজ করা হচ্ছে। একটি সড়ক সংস্কারের ১০ দিনের মধ্যেই যদি আবার সংস্কারের প্রয়োজন হয়, তাহলে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। তারা বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ীই তারা কাজ করছেন।

 

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বৃষ্টির মধ্যে কাজ করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ছোট থাকতেই খানাখন্দ মেরামত করতে হয়, না হলে তা আরও বড় হয়ে যায়। তাই বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কাজ করতে হচ্ছে।

 

তবে বৃষ্টির মধ্যে করা এ সংস্কার কতটা টেকসই হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছুই করার নেই, এটি সরকারের চলমান প্রক্রিয়া।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫২:২৭ ● ২০ বার পঠিত