মঙ্গলবার ● ২৮ জুলাই ২০২৬

ভরা মৌসুমেও পিরোজপুরে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, চড়া সব ধরনের মাছের দাম

হোম » জেলে-মৎস্য » ভরা মৌসুমেও পিরোজপুরে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, চড়া সব ধরনের মাছের দাম
মঙ্গলবার ● ২৮ জুলাই ২০২৬


 

ভরা মৌসুমেও পিরোজপুরে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, চড়া সব ধরনের মাছের দাম

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর

 

ভরা মৌসুম চললেও পিরোজপুরের নদ-নদী ও বাজারে মিলছে না প্রত্যাশিত ইলিশ। ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ। সরবরাহ কম থাকায় ইলিশসহ প্রায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে, ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

 

পিরোজপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং মাঝারি ও বড় আকারের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

শুধু ইলিশ নয়, অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের দামও বেড়েছে। রূপচাঁদা প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা, তপস্বী ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, পোয়া ৬০০ টাকা এবং টুনা ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

চাষের মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। রুই প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

মৎস্য ব্যবসায়ীদের দাবি, সাগরে অবৈধ ট্রলিং জাহাজের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ আহরণ এবং মাছের রেণু ধ্বংসের কারণে সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন কমছে। পাশাপাশি অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহারে পোনা ও ছোট মাছ নিধন হওয়ায় দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বাজারে, বাড়ছে চাষের মাছের ওপর নির্ভরতা।

 

কাউখালী বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী হেলাল বলেন, ‘ইলিশের এখন ভরা মৌসুম, কিন্তু বাজারে তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। অল্প যা পাওয়া যায়, সেটিও বেশি দামে কিনতে হয়। তাই বাজারে ইলিশের দামও বেশি।’

 

পিরোজপুর পৌর মাছ বাজারের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আগে বর্ষাকালে দেশীয় অনেক মাছ পাওয়া যেত, এখন আগের মতো পাওয়া যায় না। অবৈধ চায়না জাল ও সাগরে ট্রলিং জাহাজের কারণে মাছের রেণু নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’

 

মাছ কিনতে আসা রনি আলী বলেন, ‘স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে ইলিশ কেনা সম্ভব নয়। বাজারে সরবরাহ কম, আর যা পাওয়া যায় তার দাম দুই হাজার টাকার বেশি। ইলিশ এখন বড়লোকের খাবার, গরিবের জন্য বিলাসিতা।’

 

পিরোজপুর জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি কমল দাস বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময় সাগরে ট্রলিং জাহাজ দিয়ে মাছ ধরার কারণে জেলেরা কাঙ্ক্ষিত মাছ পাচ্ছেন না। এসব জাহাজ মাছের রেণু-পোনা ধ্বংস করায় মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।’

 

তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, ‘ইলিশ একটি সামুদ্রিক মাছ। প্রজনন মৌসুমে ডিম ছাড়তে তারা সাগর থেকে নদীতে আসে। বর্তমানে নদ-নদীতে অনেক ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় সমুদ্র থেকে নদীতে ইলিশের প্রবেশে বাধা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে নদীতে ইলিশ তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘পিরোজপুরে ধরা পড়া ইলিশের বড় অংশ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। ফলে স্থানীয় বাজারে ইলিশের উপস্থিতি কম থাকে। এছাড়া চায়না দুয়ারি জালসহ অবৈধ জালের কারণে দেশীয় মাছের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব জাল জব্দ ও ধ্বংস করছে। দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে এ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৮:০৬ ● ২৫ বার পঠিত