মঙ্গলবার ● ২৮ জুলাই ২০২৬

নিজ অর্থায়নে তিন ভাঙা সেতু-কালভার্ট সংস্কার, কমেছে ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

হোম » বরগুনা » নিজ অর্থায়নে তিন ভাঙা সেতু-কালভার্ট সংস্কার, কমেছে ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ
মঙ্গলবার ● ২৮ জুলাই ২০২৬


 

নিজ অর্থায়নে তিন ভাঙা সেতু-কালভার্ট সংস্কার, কমেছে ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বেতাগী (বরগুনা)

 

বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা তিনটি লোহার সেতু ও কালভার্ট নিজ অর্থায়নে সংস্কার করে দিয়েছেন স্থানীয় সমাজকর্মী মো. রেজাউল করিম। এতে তিন গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।

 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কারিকরপাড়া, মাঝিকান্দা ও গড়িয়াবুনিয়া এলাকার খালের ওপর নির্মিত তিনটি সেতু ও কালভার্টের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরসিসি ঢালাই ও গাছের তক্তা দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও যানবাহনের চলাচল এখন অনেকটাই নিরাপদ ও স্বাভাবিক হয়েছে।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৭ থেকে ১০ বছর আগে নির্মিত সেতু ও কালভার্টগুলোর ঢালাই ও কাঠের অংশ নষ্ট হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। মুমূর্ষু রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়াসহ নিত্যদিনের কাজে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করতেন এলাকাবাসী।

 

স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, ‘সেতুগুলো দীর্ঘদিন চলাচলের অনুপযোগী ও নড়বড়ে ছিল। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান হয়নি।’

 

অটোরিকশাচালক কামাল হোসেন বলেন, ‘সংস্কারের পর এখন মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। আগের মতো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে না।’

 

শিক্ষার্থী সাবরিনা ও নুপুর জানায়, আগে স্কুল-কলেজে যেতে অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হতো। এখন সময়ও বাঁচছে, নিরাপদেও চলাচল করা যাচ্ছে।

 

স্থানীয় গৃহবধূ হীরা বেগম বলেন, ‘নিজ অর্থায়নে সেতু মেরামত করে তিনি আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করেছেন। তার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।’

 

সমাজকর্মী মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘সেতুগুলো ভাঙা থাকায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে বেশি সমস্যা হতো। তাই এলাকার কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে নিজ অর্থায়নে আরসিসি ঢালাই ও গাছের তক্তা ব্যবহার করে সেতুগুলো সংস্কার করেছি।’

 

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে জেনেছি। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ এভাবে এগিয়ে এলে স্থানীয় উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৬:০৫:৪৩ ● ২১ বার পঠিত