শনিবার ● ২৫ জুলাই ২০২৬

বাউফলে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে দুই ছাত্রদল নেতার হাতাহাতি

হোম » পটুয়াখালী » বাউফলে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে দুই ছাত্রদল নেতার হাতাহাতি
শনিবার ● ২৫ জুলাই ২০২৬


-সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী

 

পটুয়াখালীর বাউফলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্রের ভিডিও ধারণ ও পরীক্ষাকক্ষে অবস্থান নিয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ এবং পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব সাদিকুজ্জামান রাকিবের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ হলরুমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় সুপারভাইজার ও আইটি সুপারভাইজার পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের ছেলে রাইয়ান আকাশ পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোনসহ কিছুক্ষণ পরীক্ষাকক্ষে অবস্থান করেন। একই সময় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ বাইরে থেকে পরীক্ষাকক্ষের ভিডিও ধারণ করেন।

 

পরীক্ষা শেষে বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে ফাহাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ভিডিও ধারণের বিষয়টি নিয়ে ফাহাদ ও সাদিকুজ্জামান রাকিবের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

 

এ ঘটনায় দুজনই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন। সাদিকুজ্জামান রাকিব বলেন, ‘দলীয় পদ ব্যবহার করে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রভাব বিস্তার করে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমার ওপর হামলা করা হয়।’

 

অন্যদিকে আবদুল্লাহ আল ফাহাদ অভিযোগ করেন, রাকিব অতর্কিতভাবে তাঁর ওপর হামলা করেছেন।

 

পরীক্ষার্থী জসিম উদ্দীন অন্তু বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া পরীক্ষাকক্ষে কারও অবস্থান করার সুযোগ নেই। নিয়মনীতি না মেনে একজন পরীক্ষাকক্ষে অবস্থান করেছেন এবং বাইরে থেকে পরীক্ষাকক্ষের ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় পরীক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।

 

এদিকে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে তালিকা জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাইয়ান আকাশের বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে রাইয়ান আকাশ বলেন, ‘পরীক্ষার সময় আমি হলে উপস্থিত ছিলাম। তবে বেশিক্ষণ থাকিনি, অল্প সময় ছিলাম।’

 

বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) তসলিম তালুকদার বলেন, ‘আমরা ইউএনওকে কোনো তালিকা দিইনি। তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। ইউএনও জানিয়েছেন, পরীক্ষা নিরপেক্ষ হবে এবং উপরের নির্দেশও সেটিই।’

 

তবে পরীক্ষার সময় উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপস্থিত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

 

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘অবৈধভাবে কারও পরীক্ষাকক্ষে থাকার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে উপস্থিতির সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো সুপারিশে নিয়োগ দেওয়া হবে না। যারা পরীক্ষায় ভালো করবেন, তাঁদেরই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৮:১২:১১ ● ২২ বার পঠিত