শনিবার ● ২৫ জুলাই ২০২৬
বর্ষায় দেয়ালে নোনা ধরলে যা করবেন
হোম » লাইফস্টাইল » বর্ষায় দেয়ালে নোনা ধরলে যা করবেন![]()
সাগরকন্যা লাইফস্টাইল ডেস্ক
বর্ষাকালে বাড়ির দেয়ালে নোনা ধরা খুবই পরিচিত সমস্যা। দেয়ালে সাদা দাগ, রং খসে পড়া, প্লাস্টার ফুলে ওঠা কিংবা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ এসবই নোনা ধরার লক্ষণ। অনেকেই সমস্যার সমাধানে শুধু নতুন রং করেন। কিন্তু মূল কারণ দূর না করলে কিছুদিন পর আবারও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
দেয়ালে নোনা দেখা দিলে প্রথমেই ছাদ ও বাইরের দেয়াল পরীক্ষা করা জরুরি। ছাদে ছোট ফাটল বা বাইরের দেয়ালে চিড় থাকলে সেখান দিয়ে বৃষ্টির পানি ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকে দেয়ালে আর্দ্রতা তৈরি করতে পারে। এই আর্দ্রতার কারণেই দেয়ালের ভেতরে লবণ জমে নোনা ধরে। ফাটল থাকলে ওয়াটারপ্রুফ কোটিং বা উপযুক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে দ্রুত মেরামত করা উচিত।
পানির পাইপে লিকেজ থাকলেও দেয়ালে নোনা ধরতে পারে। বর্ষা ছাড়াও যদি দেয়াল ভেজা থাকে বা রং উঠে যেতে শুরু করে, তাহলে পাইপলাইন পরীক্ষা করানো দরকার। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ খুলে পাইপ মেরামত করতে হবে। শুধু নতুন রং করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
বাথরুমের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ জরুরি
বাথরুমে পানি ও জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় এই অংশে নোনা ধরার ঝুঁকিও বেশি। বিশেষ করে দোতলার বাথরুমের নিচের ঘরের ছাদে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। গোসলের পর বাথরুম শুকনো রাখুন, এক্সহস্ট ফ্যান চালু করুন এবং সম্ভব হলে জানালা খুলে দিন।
বর্ষায় ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। সুযোগ পেলেই দরজা-জানালা খুলে দিলে ঘরের ভেজাভাব কমে। অতিরিক্ত স্যাঁতসেঁতে ঘরে এসির ড্রাই মোড বা ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। ছোট ঘরে সিলিকা জেল প্যাকেটও কিছুটা কার্যকর হতে পারে।
সরাসরি রং নয়, আগে পরিষ্কার করুন
নোনা ধরা দেয়ালের ওপর সরাসরি রং করলে কিছুদিন ভালো দেখালেও সমস্যা আবার ফিরে আসতে পারে। তাই প্রথমে স্ক্র্যাপার বা শুকনো শক্ত নাইলন ব্রাশ দিয়ে দেয়ালে জমে থাকা সাদা গুঁড়োর মতো নোনা পরিষ্কার করতে হবে। কাজের সময় মাস্ক ও দস্তানা ব্যবহার করা ভালো।
দেয়াল পরিষ্কারে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা উচিত নয়। ভেতরের দেয়ালে প্রেশার ওয়াশার ব্যবহার করলে নোনা আরও গভীরে ঢুকে সমস্যা বাড়তে পারে। ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করার পর এক ভাগ সাদা ভিনেগার ও চার ভাগ পরিষ্কার পানি মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করে নরম কাপড় বা স্পঞ্জ দিয়ে আক্রান্ত স্থান মুছে নেওয়া যেতে পারে। এরপর শুকনো কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে দেয়াল সম্পূর্ণ শুকাতে দিন।
দেয়াল শুকিয়ে গেলে অ্যান্টি-ড্যাম্প বা ওয়াটারপ্রুফ প্রাইমার ব্যবহার করে তারপর রং করা উচিত। এতে সমস্যার পুনরাবৃত্তি কিছুটা কমানো সম্ভব।
নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণেই স্থায়ী সমাধান
পুকুর, খাল বা জলাশয়ের পাশে থাকা বাড়ির নিচের অংশে মাটি থেকে আর্দ্রতা উঠে নোনা ধরার প্রবণতা বেশি থাকতে পারে। তাই মেঝে ও ঘর শুকনো রাখা এবং নিয়মিত আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
দেয়ালে নোনা ধরার সমস্যা একদিনে তৈরি হয় না, আবার একদিনে দূরও হয় না। ছাদ, বাইরের দেয়াল, পাইপলাইন ও বাথরুম নিয়মিত পরীক্ষা করলে বড় ক্ষতির আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বর্ষা শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় মেরামত করে রাখলে দেয়াল দীর্ঘদিন সুন্দর ও টেকসই রাখা সম্ভব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নোনা দেখা দিলে শুধু রং না করে আগে এর মূল কারণ শনাক্ত করা। পানি প্রবেশ, পাইপের লিকেজ, অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও মাটি থেকে উঠে আসা স্যাঁতসেঁতে ভাব-এই চারটি বিষয় নজরে রাখলে বর্ষায় দেয়ালে নোনা ধরার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
বাংলাদেশ সময়: ৮:০৬:৫০ ● ১৮ বার পঠিত
