বুধবার ● ১৫ জুলাই ২০২৬
ওয়াই-ফাই নিরাপদ তো? অজান্তেই ঝুঁকিতে থাকতে পারে আপনার পুরো ঘর
হোম » প্রযুক্তি » ওয়াই-ফাই নিরাপদ তো? অজান্তেই ঝুঁকিতে থাকতে পারে আপনার পুরো ঘর
সাগরকন্যা প্রযুক্তি ডেস্ক
সকালে ঘুম থেকে উঠেই স্মার্টফোন হাতে নেওয়া,অফিসের কাজ ল্যাপটপে, রাতে স্মার্ট টিভিতে সিনেমা কিংবা ঘরের নিরাপত্তায় সিসিটিভি এসবের পেছনে নীরবে কাজ করে একটি প্রযুক্তি, যার নাম ওয়াই-ফাই। এখন একটি পরিবারের প্রায় সব ডিজিটাল ডিভাইস একই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকে। কিন্তু সেই নেটওয়ার্কটি যদি যথেষ্ট সুরক্ষিত না হয়, তাহলে শুধু ইন্টারনেট নয়, ঝুঁকিতে পড়তে পারে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, অনলাইন অ্যাকাউন্ট, এমনকি স্মার্ট হোমের নিরাপত্তাও।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্বল নিরাপত্তার ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে অননুমোদিত ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারলে সংরক্ষিত তথ্য চুরি, পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেওয়া, ডিভাইস নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বা আপনার ইন্টারনেট সংযোগ অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অথচ মাত্র কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
প্রথমেই বদলে ফেলুন রাউটারের ডিফল্ট পাসওয়ার্ড
নতুন রাউটার কেনার পর বেশির ভাগ ব্যবহারকারী নির্মাতার দেওয়া অ্যাডমিন পাসওয়ার্ড অপরিবর্তিত রাখেন। এটিই সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি। কারণ, এই তথ্য অনেক ক্ষেত্রেই সহজে জানা যায়। তাই রাউটার চালুর পরপরই অ্যাডমিন পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা উচিত।
পাসওয়ার্ডে বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্নের সমন্বয় রাখুন। একই সঙ্গে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের জন্যও আলাদা একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। অন্তত ১২ থেকে ১৬ অক্ষরের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। নিজের নাম, মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ বা সহজে অনুমান করা যায় এমন তথ্য এড়িয়ে চলাই ভালো।
শুধু পাসওয়ার্ড নয়, এনক্রিপশনও গুরুত্বপূর্ণ
অনেকেই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলেও রাউটারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হালনাগাদ করেন না। বর্তমানে WPA3 সবচেয়ে নিরাপদ ওয়াই-ফাই এনক্রিপশন প্রযুক্তি। রাউটার এটি সমর্থন না করলে WPA2 ব্যবহার করা উচিত। তবে WEP বা পুরোনো WPA প্রযুক্তি এখন আর নিরাপদ নয়।
নেটওয়ার্কের নামেও সতর্ক থাকুন
ওয়াই-ফাইয়ের নাম বা SSID-এ নিজের নাম, বাসার নম্বর কিংবা রাউটারের ব্র্যান্ড ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ, এসব তথ্য সাইবার অপরাধীদের জন্য নেটওয়ার্ক সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। নিরপেক্ষ ও ব্যক্তিগত পরিচয়বিহীন একটি নাম ব্যবহার করাই নিরাপদ।
রাউটারকে নিয়মিত আপডেট করুন
স্মার্টফোনের মতো রাউটারও নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট পায়। এসব আপডেটে নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি দূর করা হয়। তাই দীর্ঘদিন ফার্মওয়্যার আপডেট না করলে পুরোনো দুর্বলতা থেকেই যেতে পারে।
যে দুটি সুবিধা বন্ধ রাখাই ভালো
অনেক রাউটারে WPS এবং Remote Management সুবিধা চালু থাকে। প্রয়োজন না হলে এই দুটি ফিচার বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এগুলোর মাধ্যমে অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অতিথিদের জন্য আলাদা নেটওয়ার্ক
বাসায় অতিথি এলে মূল ওয়াই-ফাইয়ের পাসওয়ার্ড না দিয়ে Guest Network ব্যবহার করা ভালো। এতে অতিথিরা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন, কিন্তু আপনার ব্যক্তিগত ডিভাইস বা হোম নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে পারবেন না।
মাঝেমধ্যে দেখে নিন কারা যুক্ত আছে
রাউটারের সেটিংসে গিয়ে নিয়মিত সংযুক্ত ডিভাইসের তালিকা পরীক্ষা করুন। পরিচিত নয় এমন কোনো ডিভাইস দেখা গেলে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং প্রয়োজনে রাউটার পুনরায় সেটআপ করুন।
পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ে বাড়তি সতর্কতা
ক্যাফে, বিমানবন্দর বা শপিং মলের বিনা মূল্যের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় ব্যাংকিং, অনলাইন লেনদেন বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে লগইন করা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজন হলে VPN ব্যবহার করুন এবং সব সময় ডিভাইসের সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখুন।
যা করবেন এক নজরে
রাউটারের ডিফল্ট অ্যাডমিন পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
অন্তত ১২-১৬ অক্ষরের শক্তিশালী ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
WPA3 বা WPA2 এনক্রিপশন চালু রাখুন।
রাউটারের ফার্মওয়্যার নিয়মিত আপডেট করুন।
WPS ও Remote Management বন্ধ রাখুন।
অতিথিদের জন্য Guest Network ব্যবহার করুন।
নিয়মিত সংযুক্ত ডিভাইসের তালিকা পরীক্ষা করুন।
পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ে সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।
শেষ কথা
ঘরের দরজায় তালা লাগানোর মতোই গুরুত্বপূর্ণ ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কারণ, ডিজিটাল জীবনের সবচেয়ে বড় প্রবেশদ্বার এখন অনেক ক্ষেত্রেই একটি ছোট্ট রাউটার। কয়েক মিনিট সময় নিয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে ব্যক্তিগত তথ্য, স্মার্ট ডিভাইস এবং পুরো হোম নেটওয়ার্ককে সাইবার হুমকি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
বাংলাদেশ সময়: ৭:২৬:০০ ● ২৫ বার পঠিত
