সোমবার ● ১৩ জুলাই ২০২৬

আমতলীর চাওড়া-বাসুগী খাল দখলে সহস্রাধিক স্থাপনা, বালুর বাঁধে বন্ধ পানি প্রবাহ

হোম » লিড নিউজ » আমতলীর চাওড়া-বাসুগী খাল দখলে সহস্রাধিক স্থাপনা, বালুর বাঁধে বন্ধ পানি প্রবাহ
সোমবার ● ১৩ জুলাই ২০২৬


 

আমতলীঃ বাসুগী খালে এভাবেই প্রভাবশালীরা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

 

বরগুনার আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট এলাকার চাওড়া ও বাসুগী খাল দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীদের নির্মিত সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনার কারণে পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, খালের সংযোগস্থলের কালভার্টের এক মুখ বালুর বস্তা দিয়ে বন্ধ করে রাখায় সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতেও পানি নিষ্কাশন হয়নি। এতে জলাবদ্ধতা ও পচা পানির দুর্ভোগে পৌর শহরসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে আমতলী উপজেলা শহর রক্ষায় চাওড়া খালের ওপর ক্লোজার নির্মাণের পর থেকেই স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হতে থাকে। পরে পানি নিষ্কাশনের জন্য ২০১৫ সালে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধঘাট চৌরাস্তায় ৪৩/১ পোল্ডারের আওতায় চাওড়া ও বাসুগী খালের সংযোগস্থলে একটি কালভার্ট নির্মাণ করে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই খালের দুই পাড় এবং কালভার্টসংলগ্ন এলাকা দখল করে সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে।

 

অভিযোগ রয়েছে, স্থাপনা রক্ষার উদ্দেশ্যে কালভার্টের এক মুখ বালুর বস্তা দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কাঁচাবাজার, মাছবাজার ও কসাইখানার বর্জ্য দীর্ঘদিন ধরে খালে ফেলায় খাল ভরাট হয়ে গেছে। ফলে গত ১০ দিনের টানা বৃষ্টিতেও কালভার্ট দিয়ে পানি নামেনি এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা নকিব ও খালেক মিয়া বলেন, কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল খালের পানি নিষ্কাশনের জন্য। কিন্তু অবৈধ স্থাপনা রক্ষায় প্রভাবশালীরা বালুর বস্তা দিয়ে এর মুখ বন্ধ করে রেখেছেন। পানি চলাচল স্বাভাবিক হলে অনেক অবৈধ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, চাওড়া ও বাসুগী খালের বিভিন্ন অংশ এবং কালভার্টসংলগ্ন এলাকায় অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। খালের ওপর ও দুই পাড়জুড়ে বাজার, দোকান এবং কসাইখানা স্থাপন করা হয়েছে। খালে জমে থাকা বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং কালভার্টের মুখে বালুর বস্তার কারণে পানি প্রবাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে।

 

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ‘দ্রুত বালুর বস্তা সরিয়ে খালের পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। খালের পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হান্নান প্রধান বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে খাল খননের কাজ শুরু করা হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৮:০৯:২৫ ● ২৩ বার পঠিত