বুধবার ● ৮ জুলাই ২০২৬

সংস্কারের অভাবে কয়রার পাউবোর বেড়িবাঁধে বাড়ছে দুর্ঘটনা, এক যুগেও পড়েনি এক চাপ মাটি

হোম » খুলনা » সংস্কারের অভাবে কয়রার পাউবোর বেড়িবাঁধে বাড়ছে দুর্ঘটনা, এক যুগেও পড়েনি এক চাপ মাটি
বুধবার ● ৮ জুলাই ২০২৬


 

সংস্কারের অভাবে কয়রার পাউবোর বেড়িবাঁধে বাড়ছে দুর্ঘটনা, এক যুগেও পড়েনি এক চাপ মাটি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কয়রা (খুলনা)

 

খুলনার কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর কয়রা গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নদীরক্ষা বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাঁধে নতুন করে মাটি না ফেলায় সিসি ব্লকের নিচে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি বর্ষা ও জোয়ারে নদীর পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নব্বইয়ের দশকে নির্মিত নদীরক্ষা বাঁধটি ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাঁধ রক্ষা করা হয় এবং পাউবো আংশিক সংস্কার করে। ২০১৩ সালের দিকে নদীভাঙন ঠেকাতে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় সিসি ব্লক স্থাপন করা হলেও এরপর আর কোনো বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। দীর্ঘদিনের বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস ও ক্ষয়ের কারণে বাঁধের ভেতরের অংশের মাটি সরে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। জোয়ারের সময় কয়েকটি স্থানে পানি প্রবেশ করায় বাঁধের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, ৪ নম্বর কয়রা লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশ থেকে স্লুইসগেট অভিমুখী প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। সিসি ব্লকের টেম্পারিং নষ্ট হয়ে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা আবু বকর শেখ বলেন, ‘রাস্তাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা পরিষদ এখানে কাজ করে না। দ্রুত সংস্কার হলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াত সহজ হবে।’

 

গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার সাগরকন্যাকে বলেন, ‘সিসি ব্লকের আবরণ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে মাটি দিয়ে সংস্কার না করলে বড় জোয়ারে পানি উপচে এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

 

এলাকাবাসীর ভাষ্য, এই বেড়িবাঁধ শুধু যোগাযোগের পথ নয়; দুর্যোগের সময় এটি নিরাপদ আশ্রয় ও জরুরি যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

 

কয়রা সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, ‘এটি পাউবোর বেড়িবাঁধ হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ মেরামত করতে পারে না। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

 

কয়রা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এস এম লুৎফর রহমান বলেন, ‘রাস্তার ঝুঁকিপূর্ণ অংশে দ্রুত মাটি ফেলে উন্নয়ন করা প্রয়োজন।’

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে ৪ নম্বর কয়রা লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশ থেকে স্লুইসগেট অভিমুখী সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৪৫:৪২ ● ২৪ বার পঠিত