শনিবার ● ২৭ জুন ২০২৬
কলাপাড়ায় আন্ধারমানিক সেতুর ফুটপাতের স্লাব বিধ্বস্ত, উধাও সৌরপ্যানেল
হোম » লিড নিউজ » কলাপাড়ায় আন্ধারমানিক সেতুর ফুটপাতের স্লাব বিধ্বস্ত, উধাও সৌরপ্যানেল

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্ধারমানিক সেতুর ফুটপাতের অসংখ্য স্লাব ভেঙে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সেতুর সৌরবিদ্যুৎনির্ভর আলোকসজ্জা ব্যবস্থারও বেহাল অবস্থা। অর্ধেকের বেশি সৌরবাতি রাতের বেলায় জ্বলে না এবং অন্তত ২২টি সৌরবাতির প্যানেল চুরি হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ফলে ফুটপাত ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এ অবস্থা চললেও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তারা দ্রুত ফুটপাতের ক্ষতিগ্রস্ত স্লাব মেরামত এবং সৌরবাতিগুলো সচল করার দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের ফুটপাতের অসংখ্য স্লাব ভেঙে গেছে। পাঁচ থেকে সাত বছর আগে কিছু স্লাব ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরামত করা হয়েছিল। তবে নতুন করে ভেঙে যাওয়া অনেক স্লাব অন্তত দুই বছর ধরে একই অবস্থায় পড়ে আছে। অন্যদিকে বহু সৌরবাতি দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২২টি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল চুরি হওয়ায় রাতের বেলায় সেতুর বড় অংশ অন্ধকারে ডুবে থাকে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর সেতুটিতে ভ্রমণকারী, দর্শনার্থী ও পথচারীদের আনাগোনা থাকে। অনেকেই হাঁটাহাঁটি ও অবসর কাটাতে সেখানে যান। একই সঙ্গে কুয়াকাটাগামী শত শত দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ট্রলি প্রতিদিন সেতুটি ব্যবহার করে। ফলে ভাঙা ফুটপাত ও অন্ধকার পরিবেশ পথচারীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।
পথচারী আবুল হাসান বলেন, ‘আমি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করি। ফুটপাতের স্লাব ভাঙা থাকায় চলাচলে খুব সমস্যায় পড়তে হয়। এছাড়া প্রায় অর্ধেক সৌরবাতি অচল, জ্বলে না।’
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’র সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ‘জনস্বার্থে দ্রুত এই স্লাবগুলো মেরামত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সৌরবাতিগুলোও সচল করা দরকার।’ স্থানীয়দেরও একই দাবি।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রায় দুই বছর আগে ক্ষতিগ্রস্ত স্লাব দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য আমি পটুয়াখালী জেলা সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করেছি। এছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি অবগত করব।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৩:৩২ ● ৩২ বার পঠিত
