বৃহস্পতিবার ● ২৫ জুন ২০২৬

বাউফলে জমির বিরোধে সংখ্যালঘুকে মারধর, দেশ ছাড়ার হুমকির অভিযোগ

হোম » পটুয়াখালী » বাউফলে জমির বিরোধে সংখ্যালঘুকে মারধর, দেশ ছাড়ার হুমকির অভিযোগ
বৃহস্পতিবার ● ২৫ জুন ২০২৬


বাউফলে জমির বিরোধে সংখ্যালঘুকে মারধর, দেশ ছাড়ার হুমকির অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দেশত্যাগে বাধ্য করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর পরিবারের এক সদস্যের কান্নাজড়িত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগের তীর উপজেলার বগা ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের খোরশেদ মাতুব্বরের দিকে। তিনি সাবেক ইউপি সদস্য এবং স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মুকুন্দ চন্দ্র ঢালী (৭০) ও তার ভাইয়েরা দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া প্রায় ৭ একর ৫৭ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছেন। বর্তমানে এলাকায় চলমান ভূমি জরিপের সময় তাদের জমির একটি অংশ অন্যের নামে রেকর্ড করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

পরিবারটির দাবি, গত ১৭ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বালিয়া বাজার এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মুকুন্দ ঢালী ও তার ভাইদের মারধর করা হয়। ঘটনার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।

ঘটনার কয়েকদিন পর মুকুন্দ ঢালীর সেজ ভাই উপেন চন্দ্র ঢালীর একটি কান্নাজড়িত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাদের মারধর করা হয়েছে এবং দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

উপেন চন্দ্র ঢালী বলেন, আমরা কোথায় যাব? এই ভিটেমাটিই আমাদের সব। আমাদের দেশ ছাড়তে বলা হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

তার অভিযোগ, খোরশেদ মাতুব্বর, তার ভাই সাইদুল মাতুব্বর এবং ছেলে সোহেল মাতুব্বর মিলে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। একই সঙ্গে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে জমি নিজেদের নামে নেওয়ার চেষ্টাও করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় উপেনের মেজ ভাই পূর্ণ চন্দ্র ঢালী বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর-১০৯৭, তারিখ ২১ জুন ২০২৬। জিডিতে খোরশেদ মাতুব্বর, সাইদুল মাতুব্বর ও সোহেল মাতুব্বরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে বালিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারটির সদস্যরা উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। পরিবারের প্রবীণ সদস্য মুকুন্দ চন্দ্র ঢালী বলেন, বিতর্কিত জমির পক্ষে আমাদের বৈধ রেকর্ড, খতিয়ান ও ডিগ্রি আদালতের রায় রয়েছে। এরপরও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষা করতে চাই।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিরোধপূর্ণ ১ একর ২৬ শতাংশ জমির মূল মালিক ছিলেন ভগবতী দাসী, যিনি মুকুন্দ ঢালীর ফুপু। প্রায় ছয় দশক আগে তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে জমিটির মালিকানা মুকুন্দ ঢালীর বাবা ও চাচাদের কাছে আসে। এরপর থেকে তাদের পরিবার জমিটি ভোগদখল করে আসছে বলে দাবি করা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খোরশেদ মাতুব্বর বলেন, বিতর্কিত ১ একর ২৬ শতাংশ জমি আমার নিজস্ব সম্পত্তি। প্রায় ১১ বছর আগে আমি সুধীর মিস্ত্রীর কাছ থেকে জমিটি কিনেছি। মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা দেশত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী পক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। জিডির তদন্তের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পাওয়া গেলে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কেকে/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১২:৩৩:১৬ ● ৫৭ বার পঠিত