বৃহস্পতিবার ● ১৮ জুন ২০২৬

গলাচিপায় জাল-নৌকা নিয়ে ঘাটে জেলেরা, চলছে প্রকৃত মৎস্যজীবী শনাক্তে যাচাই

হোম » জেলে-মৎস্য » গলাচিপায় জাল-নৌকা নিয়ে ঘাটে জেলেরা, চলছে প্রকৃত মৎস্যজীবী শনাক্তে যাচাই
বৃহস্পতিবার ● ১৮ জুন ২০২৬


 

গলাচিপায় জাল-নৌকা নিয়ে ঘাটে জেলেরা, চলছে প্রকৃত মৎস্যজীবী শনাক্তে যাচাই

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর এলাকায় জেলে তালিকা হালনাগাদ ও প্রকৃত মৎস্যজীবী শনাক্তে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যতিক্রমী যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শতাধিক জেলে জাল ও নৌকা নিয়ে পুরনো লঞ্চঘাটে উপস্থিত হন।

 

বুধবার সকালে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পুরনো লঞ্চঘাটে এই কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল থেকে ঘাটজুড়ে জেলে নৌকার সারি দেখা যায়। কেউ বৈঠা হাতে নৌকায় অবস্থান নেন, কেউ সঙ্গে নিয়ে আসেন মাছ ধরার জাল। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। পুরো এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, তবে তালিকায় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে জেলেদের মধ্যে উদ্বেগও ছিল।

 

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকার জেলে তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও অভিযোগ ছিল। প্রকৃত জেলেদের বাদ পড়া এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগের পর প্রশাসন নতুন করে সরেজমিন যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেয়।

 

এ লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. ইউসুফুল ইসলাম, গলাচিপা পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবু আউয়াল এবং গলাচিপা জাতীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদক।

 

কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে মাঠপর্যায়ের যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

জেলে মো. বাদল বলেন, তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য সকাল থেকেই ঘাটে থাকতে হয়েছে, এতে সেদিন মাছ ধরতে না গিয়ে তার আয় ক্ষতি হয়েছে।

 

নারী জেলে নাসিমা বলেন, আমি ও আমার স্বামী দুজনই মাছ ধরি। আগের তালিকায় আমাদের নাম ছিল। নতুন তালিকায় নাম নিশ্চিত করতে দুজনই একসঙ্গে এসেছি।

 

মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার জেলে তালিকায় আগে ২৬৭ জনের নাম থাকলেও পরে তা বেড়ে ৪৯৩ জনে দাঁড়ায়। এ নিয়ে অভিযোগ উঠলে প্রকৃত জেলে শনাক্তে স্বচ্ছ তালিকা তৈরির লক্ষ্যে এই সরেজমিন যাচাই কার্যক্রম শুরু করা হয়।

 

যাচাই-বাছাই কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, আগে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে আবেদন নিয়ে তালিকা করা হতো। এবার সরেজমিনে জাল ও নৌকাসহ উপস্থিত থেকে যাচাই করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত জেলেদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায়।

 

প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা সরকারি সহায়তা ও সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

বাংলাদেশ সময়: ১২:৫৩:৫৩ ● ১৪৪ বার পঠিত