বুধবার ● ১৭ জুন ২০২৬

বাউফলে ইউপি কার্যালয়ে টানা দ্বিতীয় দিন তালাবদ্ধ, সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

হোম » পটুয়াখালী » বাউফলে ইউপি কার্যালয়ে টানা দ্বিতীয় দিন তালাবদ্ধ, সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ
বুধবার ● ১৭ জুন ২০২৬


বাউফলে ইউপি কার্যালয়ে তালা, সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তালা ঝুলতে থাকায় বুধবারও সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে ফিরে গেছেন। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ ও প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ইউনিয়নবাসী।

বুধবার দুপুর পর্যন্ত দাসপাড়া ইউপি কার্যালয়ের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করলেও ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন সেবা নিতে আসা মানুষজন।

দাসপাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রতিবন্ধী মো. সালমান মৃধা (৪৫) বলেন, মেয়ের জন্মনিবন্ধনের জন্য সকালে ইউনিয়ন পরিষদে এসেছিলেন। কিন্তু কার্যালয়ে তালা থাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো সেবা পাননি।

ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. নুরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছেন। গেটে তালা থাকায় দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. আবুল হোসেন বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার কয়েকজন ইউপি সদস্য ও স্থানীয় ব্যক্তি পরিষদে এসে এক উদ্যোক্তাকে মারধর করেন এবং তার ল্যাপটপ নিয়ে যান। পরে কার্যালয়ের একটি অংশ ও মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মো. সাইফুল হাসান মামুনকে মারধর ও তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

সাইফুল হাসান মামুন অভিযোগ করেন, তিনি প্রতিদিনের মতো নাগরিক সেবা প্রদান করছিলেন। এ সময় আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর করে এবং ল্যাপটপ নিয়ে যায়। পরে তার কক্ষ ও ইউনিয়ন পরিষদের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে কয়েকজন ইউপি সদস্য অভিযোগ করেছেন, চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, সোমবার সকালে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী ও তার সহযোগীরা তার বাড়িতে গিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেন। পরে জানতে পারেন সেটি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের জন্য নেওয়া হয়েছে।

সংরক্ষিত নারী সদস্য কুলসুম বেগমও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, চোখের অস্ত্রোপচারের পর বাড়িতে বিশ্রামে থাকার সময় কয়েকজন ব্যক্তি গিয়ে তাকে স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য চাপ দেন। ভীতিকর পরিস্থিতির মুখে তিনি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী বলেন, ইউপি সদস্যরাই এসব কর্মকাণ্ড করেছেন। তার সঙ্গে ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার নাম জড়ানো হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য বলেন, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়া উচিত নয়। দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, উদ্যোক্তাকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কয়েকজন ইউপি সদস্যের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও এসেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কেকে/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ২১:০০:২৭ ● ২২ বার পঠিত