মঙ্গলবার ● ১৬ জুন ২০২৬

ভাণ্ডারিয়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যা নাকি আত্মহত্যা-তদন্তে পুলিশ

হোম » পিরোজপুর » ভাণ্ডারিয়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যা নাকি আত্মহত্যা-তদন্তে পুলিশ
মঙ্গলবার ● ১৬ জুন ২০২৬


ভাণ্ডারিয়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যা নাকি আত্মহত্যা-তদন্তে পুলিশ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর)

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় শাহাদাৎ হোসেন বাপ্পি (২৭) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার কানুয়া (৮ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় হত্যা নাকি আত্মহত্যা-এ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত বাপ্পি ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ১ নম্বর ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শিয়ালকাঠী গ্রামের শহিদ হাওলাদারের ছেলে। তিনি আহাদ হাওলাদার মুরসালিন (৬) ও মুসফিকা (সাড়ে ৩ বছর) নামের দুই সন্তানের জনক।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাপ্পির স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম গার্মেন্টসে কাজের জন্য জর্ডানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে এ বিষয়ে স্বামী বাপ্পি ও তার পরিবারের আপত্তি ছিল। এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে মীম কিছুদিন আগে বাবার বাড়িতে চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশ যাওয়ার কাগজপত্র তৈরির অজুহাতে তিনি একাধিকবার ঢাকায় যাতায়াত করতেন এবং বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করতেন।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত ১১ জুন মীম স্বামীকে না জানিয়ে ঢাকায় গিয়ে একটি হোটেলে অবস্থান নেন। ওই সময় ভিডিও কলে বাপ্পি তাকে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে হোটেল রুমে দেখতে পান-এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরবর্তীতে ১৪ জুন মীম ঢাকার বাসা ছেড়ে ভাণ্ডারিয়ার কানুয়া এলাকায় বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং পরে স্বামী বাপ্পিকে সেখানে আসতে বলেন।

নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম বলেন, ১৫ জুন রাতে খাবার শেষে আমাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। রাত ১টার দিকে ঘুমিয়ে পড়ি। পরে রাত ২টার দিকে ঘুম ভেঙে দেখি বাপ্পি ঘরে নেই। খুঁজতে গিয়ে দেখি তিনি আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছেন। পরে আমি ওড়না কেটে তাকে নিচে নামিয়ে খাটে রাখি এবং পরিবারকে খবর দিই।

অন্যদিকে নিহতের মা রুবী বেগম দাবি করেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করে এখন আত্মহত্যার নাটক সাজানো হচ্ছে। পুত্রবধূর একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। ঢাকায় হোটেলে অন্য পুরুষের সঙ্গে তাকে দেখে আমার ছেলে ক্ষুব্ধ হয়েছিল। সেই ক্ষোভেই আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনাস্থলে আসা নিহতের মা রুবী বেগম ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় মীমের চাচাতো ভাই বেল্লাল হাওলাদার তাকে বাঁশ দিয়ে মারধর করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মণ্ডল জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা-তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


এসই/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৪:০৭ ● ২৮ বার পঠিত