সোমবার ● ১৫ জুন ২০২৬

গলাচিপায় স্কুল ফিডিংয়ে তেঁতো ডিম সরবরাহের অভিযোগ

হোম » পটুয়াখালী » গলাচিপায় স্কুল ফিডিংয়ে তেঁতো ডিম সরবরাহের অভিযোগ
সোমবার ● ১৫ জুন ২০২৬


গলাচিপায় স্কুল ফিডিংয়ে তেঁতো ডিম সরবরাহের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
গলাচিপায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিশু শিক্ষার্থীদের তেঁতো স্বাদের ডিম সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চারটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিবার (১৫ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে নষ্ট ডিমসহ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গলাচিপা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজনু মোল্লা।

রতনদী তালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে রুমান বলেন, রবিবার প্রথম শিফটে আমাদের বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের ডিম দেওয়ার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ডিম নিয়ে আমার কাছে আসে। তারা জানায়, ডিম খেতে পারছে না, স্বাদ তেঁতো লাগছে। আমি নিজেও ডিমের স্বাদ নিয়ে দেখি সত্যিই তেঁতো। এরপর আর কেউই ডিম খায়নি। পরে পাশের কয়েকটি স্কুলে যোগাযোগ করে জানতে পারি, সেখানকার ডিমও একইভাবে তেঁতো স্বাদের। একটি নমুনা ডিম অফিসে নিয়ে এসেছি।

গোলখালী ইউনিয়নের সুহরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিনাস চন্দ্র হাওলাদার বলেন, রুটি খুবই নিম্নমানের, বাচ্চারা খেতে চায় না। অনেক সময় অল্প খেয়ে ফেলে দেয়, তারপর গুঁড়ো হয়ে যায়। কোনো স্বাদ নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হচ্ছে। ডিমও ছোট, কোকিলের ডিমের মতো। যে মান ও পরিমাণের খাবার দেওয়ার কথা, তা দেওয়া হচ্ছে না।

সাংবাদিক আবদুল গনি মিয়ার স্কুলের প্রধান শিক্ষক জেরিন সাগর বলেন, শনিবার যে রুটিগুলো দেওয়া হয়েছিল, আজ শিক্ষার্থীরা খেতে গিয়ে জানায় কোনো স্বাদ নেই, যেন সোলার মতো হয়ে গেছে। এতে বাচ্চারা বিরক্ত হয়ে খেতে চাচ্ছে না।

এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজনু মোল্লা বলেন, গত সপ্তাহেও দক্ষিণ চরবিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ে খাবার পৌঁছায়নি, বিকেল চারটার পর সরবরাহ করা হয়েছিল। এতে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়। সময়মতো খাবার না পাওয়ায় শিক্ষকরা বিতরণ করতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, আজকের অভিযোগ অনুযায়ী ডিমগুলো প্রথমে দেখে রাখা সম্ভব নয়, কিন্তু সিদ্ধ করার পর কয়েকটি স্কুলে তা তেঁতো স্বাদ পাওয়া গেছে বলে শিক্ষকরা নমুনা নিয়ে এসেছেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

তিনি আরও জানান, বিতরণকারী সংস্থা গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার গলাচিপা শাখার এরিয়া ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

এদিকে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার পটুয়াখালী জেলা ম্যানেজার মোবাইল ফোনে বলেন, আজকের অভিযোগগুলো আমরা শুনেছি। সোমবার সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলো পরিদর্শনে যাব এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবো।


এসডি/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ২০:১৫:৩৭ ● ২৯ বার পঠিত