বৃহস্পতিবার ● ১১ জুন ২০২৬
ভান্ডরিয়ায় কচুরিপানা অপসারণ শুরু, স্বস্তি ৪০ হাজার পরিবারে
হোম » পিরোজপুর » ভান্ডরিয়ায় কচুরিপানা অপসারণ শুরু, স্বস্তি ৪০ হাজার পরিবারে

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ভান্ডরিয়া (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের ভান্ডরিয়া উপজেলার ধাওয়া ও ইকড়ি ইউনিয়নসংলগ্ন বায়নের খালে দীর্ঘদিন কচুরিপানা জমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে প্রায় ৪০ হাজার পরিবার দুর্ভোগে পড়ে। প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরের নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসিবুল হাসান কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
এদিকে, খালনির্ভর প্রায় ৪০ হাজার পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার, কৃষি সেচ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম দুর্ভোগে ছিল।
জানা গেছে, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরের নির্দেশনায় খালটির কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
সম্প্রতি খালটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসিবুল হাসানকে দ্রুত কচুরিপানা অপসারণের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও গুণগতমান ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেন।
এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভান্ডরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসিবুল হাসান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভান্ডরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ৫নং ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ নজরুল ইসলাম, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র বড়াল, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ শামীম হাওলাদার, ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোঃ মাসুম বিল্লাহসহ ইউপি সদস্য, বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনে এটি একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তাদের ভাষায়, ‘বছরের পর বছর খালটি কচুরিপানায় ভরে প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছিল। পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এলাকায় পানির সংকটের পাশাপাশি ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়েছিল। এ উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসিবুল হাসান বলেন, বায়নের খাল ধাওয়া ও ইকড়ি ইউনিয়নের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে খালটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হবে, যাতে এলাকাবাসী নিরাপদ ও ব্যবহার উপযোগী পানি পায় এবং কৃষি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অপসারণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর খালটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আবারও কচুরিপানায় ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ ব্যাহত না হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪২:০২ ● ১০৪ বার পঠিত
