রবিবার ● ১৭ মে ২০২৬
মুলাদীতে যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৩
হোম » লিড নিউজ » মুলাদীতে যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৩

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মুলাদী (বরিশাল)
বরিশালের মুলাদীতে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (১৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবক আল আমিন হাওলাদার (২৩) ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের হানিফ হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় নোমান পন্ডিত, আজিজুল সরদার ও শাহাবুদ্দিন ঘরামীকে আটক করা হয়েছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের সালাম পন্ডিতের ছেলে নোমান পন্ডিত (৩৫), দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের আক্তার ওরফে নান্নু সরদারের ছেলে আজিজুল সরদার (২৭), লক্ষ্মীপুর গ্রামের হানিফ আকনের ছেলে কাওসার আকন (৪৫) এবং আলী ঘরামীর ছেলে শাহাবুদ্দিন ঘরামীসহ ৪-৫ জন মিলে আল আমিন হাওলাদারকে কুপিয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
নিহতের ভাই আসিফ হাওলাদার জানান, রবিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নোমান পন্ডিত ও আজিজুল সরদার তাদের বাড়িতে যান। তারা আল আমিনকে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে বাইরে ডেকে নেন। পরে মোটরসাইকেলে করে তাকে নোমান পন্ডিতের বাড়িতে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, সেখানে নোমান পন্ডিত, আজিজুল সরদার, কাওসার আকন, শাহাবুদ্দিন ঘরামীসহ কয়েকজন মিলে আল আমিনকে মারধর ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে মৃত ভেবে তাকে পার্শ্ববর্তী বিলের মধ্যে ফেলে রাখা হয়।
এরপর স্থানীয় এক ব্যক্তি বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানালে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. কামরুল হাসান রক্তাক্ত আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই আরও বলেন, আল আমিন পেশায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। প্রায় ১৫-২০ দিন আগে তিনি একটি মাদক মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে নোমান পন্ডিত, আজিজুল সরদার, কাওসার আকন ও শান্ত হাওলাদারসহ কয়েকজনকে প্রায় ১০ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন। কারাগার থেকে ফিরে তিনি টাকা ফেরত চাইলে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, আল আমিনের মা ডালিয়া বেগম বাদী হয়ে মুলাদী থানায় মামলা করবেন।
ঘটনাস্থল থেকে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা নোমান পন্ডিত ও আজিজুল সরদারকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে সফিপুর ফাঁড়ি পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাহাবুদ্দিন ঘরামীকেও আটক করে। পুলিশ জানায়, শাহাবুদ্দিন ঘরামীর বিরুদ্ধে মাদকসহ প্রায় অর্ধশত মামলা রয়েছে।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মো. সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২১:৪৯:৪৫ ● ২৮ বার পঠিত
