রবিবার ● ১৭ মে ২০২৬
নলছিটি মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
হোম » লিড নিউজ » নলছিটি মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নলছিটি (ঝালকাঠি)
ঝালকাঠির নলছিটি ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিগত সরকারের সময় তিনি ঝালকাঠি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার মো. শাহ আলমের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়ম করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে সরদার মো. শাহ আলমকে নিয়োগ দেন এবং সেই সুযোগে বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে দেশের পট পরিবর্তনের পরও তিনি ‘পকেট কমিটি’ গঠন অব্যাহত রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ব্যক্তিকে সহ-সভাপতি এবং বিদ্যুৎসাহীসহ একাধিক পদে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া মাদরাসার ইবতেদায়ী শাখার ক্বারী মো. শামসুল হক জোমাদ্দারের দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ২০১২ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে নলছিটি ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় ইবতেদায়ী ক্বারী পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সরকারি বিধি মোতাবেক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পে-স্কেল অনুযায়ী তার বেতন গ্রেড-১৪ হলেও অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন তাকে অন্য শিক্ষক মো. আব্দুল রহিম মুন্সী (পিতা: মৃত আ: হক মুন্সী, বেতন গ্রেড-১৫, সিরিয়াল ইনডেক্স নং-২০১৬৮৮৬)-এর বেতনশীটে স্বাক্ষর করতে চাপ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি ও চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ক্বারী মো. শামসুল হক জোমাদ্দার।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন নলছিটি উপজেলার কোর্ট মসজিদের সাবেক ইমাম ও খতিব মাওলানা রেজাউল করিমের কাছ থেকে শিক্ষক নিয়োগের নামে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। পরে বিষয়টির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হলে তিনি ওই টাকা ফেরত দেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন এর আগে নলছিটি থানা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও সেখানে অনিয়মের অভিযোগ উঠায় মুসল্লিরা তার পেছনে নামাজ পড়া বন্ধ করলে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া নলছিটি ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার শিক্ষক মো. সেলিম খান (ইনডেক্স নং-১৩০৭২০৮)-কে বিধিবহির্ভূতভাবে উচ্চতর পদে পদায়ন করে সরকারি অর্থ আত্মসাতে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে ফাজিল মাদরাসায় বিধি মোতাবেক একজন সামাজিক বিজ্ঞান শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও মাছুমা (ইনডেক্স নং-২১০২৯২০) নামে একজন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অর্থের বিনিময়ে আরও একজনকে একই বিষয়ে পদায়ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া নলছিটি ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত নুরানী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা স্থানীয় নুরানী শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গেও বেতনের টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছেন অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন- এমন অভিযোগও করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার সাথে কথা বলা যায়নি।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:০০:৪২ ● ১৯ বার পঠিত
