সোমবার ● ৪ মে ২০২৬
বরগুনায় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ
হোম » লিড নিউজ » বরগুনায় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র গাইন ও সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ’র বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী।
গত সোমবার বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের তৎকালীন সময়কার এপিএস ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রধান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাঃ নুরুল ইসলাম-কে তদন্তের নির্দেশ দেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৩ জুন বরগুনায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পর থেকেই মো. মেহেদী হাসান খান বিভিন্ন ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু প্রকল্প, খাল খনন, সড়ক উন্নয়ন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারকাজে অনিয়ম হলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে আমতলী-তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩৬ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ৭৭টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। পরে গত ২০ এপ্রিল পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীর দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কেউ রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ, আবার কেউ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের আত্মীয়স্বজন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও কাজের মান নিয়ে অভিযোগ করেছেন। গুলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বলেন, মসজিদ সংস্কারের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও কাজের পরিমাণ সে অনুযায়ী হয়নি। একই ধরনের অভিযোগ করেন খুরিয়ার খেয়াঘাট সবুর গাজী চৌকিদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মো. রফিকুল ইসলাম। এছাড়া কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রেদওয়ান সরদারও সড়ক নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অভিযোগকারী ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন সাগরকন্যাকে বলেন, ‘গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ অনিয়মের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান খান। তিনি বলেন, ‘টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম করা হয়নি। আত্মীয়স্বজন বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও সঠিক নয়।’
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাঃ নুরুল ইসলাম-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৮:২৯ ● ৪৫ বার পঠিত
