নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের নাভিশ্বাস মহিপুরে সবজি ও মাছের বাজারে আগুন!

প্রথম পাতা » পটুয়াখালী » নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের নাভিশ্বাস মহিপুরে সবজি ও মাছের বাজারে আগুন!
শুক্রবার ● ৫ জুলাই ২০২৪


---

মোঃ মাহতাব হাওলাদার, মহিপুর থেকে॥
পটুয়াখালীর মহিপুরে সবজি ও মাছ বাজারের আগুনে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের। হাতের নাগালে বেগুন, শশা,আলু, পটল, ঢ়েড়স, মিষ্টি কুমড়া, লাউসহ সবরকম সবজির দাম দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। কাঁচা বাজারের পাশাপাশি মাছ মাংস দুধ ডিমের দামও চড়া। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের যেন বেঁচে থাকার দায় হয়ে পড়েছে।
মহিপুরে বাজার করতে আসা কৃষক মনোয়ার হাসেন জানান, হাটে এসে কাঁচা বাজার না করেই খালি ব্যাগ নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরছেন। তার মতে কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বেশি দামেই বাজার করে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

সরজমিনে পটুয়াখালী জেলার বৃহত্তর মহিপুর বাজারের বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক হাটে গিয়ে দেখা যায়, কাঁচা বাজারে সবজির দাম শুনলেই চমকে উঠছেন ক্রেতারা। বাজারে করলা ১০০ টাকা কেজি, ঢেড়স ৯০ টাকা কজি, বেগুন ৯০ টাকা কেজি, আলু ৭০ টাকা কেজি, ঝিঙে ১০০ টাকা কেজি, পটল ৪০ টাকা কেজি, পেঁপে ৫০ টাকা কেজি, শশা ১০০ টাকা কেজি, জালি কুমড়া ৭০ টাকা কেজি, তরাই ৪০ টাকা কেজি, পিঁয়াজ ১০০ টাকা কেজি, আদা ২৮০ টাকা কেজি, রোসন ২২০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ৩২০ টাকা কেজি, কচু ৮০ টাকা কেজি , মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৫০ টাকা, পুইশাক ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল।

অন্যদিকে রুই মাছ ৩০০ টাকা কেজি, পাঙ্গাশ ২৫০ টাকা কেজি, কাতলা মাছ ৩৫০ টাকা কেজি, সিলভারকার্প মাছ ৩০০ টাকা কেজি, টেংরা মাছ ৬০০ টাকা কেজি, চিংড়ী মাছ ৬০০/৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে মহিপুর বাজারে।

সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বগতির জন্য মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ কেবল নয়, নিম্ন আয়ের মানুষের বেঁচে থাকায় দায় হয়ে পড়েছে।
মহিপুরে বাজার করতে আসা নিম্ন আয়ের মানুষ মোঃ শাহীন জানান, তিনি বাজার করতে এসে তরি-তরকারির দাম শুনে হতাশ হয়ে বাজার না করে খালি ব্যাগ নিয়ে বাড়িতে ফেরত যাচ্ছেন। তিনি সারাদিনে কাজ করে পারিশ্রমিক পান মাত্র ৫’শ টাকা, আর বাজারে এক কেজি বেগুনের দাম ৮০ টাকা, এক কেজি পাঙ্গাশ মাছের দাম ২৫০ টাকা, আমরা গরীব মানুষ এতটাকা দিয়ে মাছ ও সবজি কিভাবে কিনে খাব বলে চরম হতাশা হয়ে পড়েন তিনি।
হাটে বাজার করতে আসা মোঃ বাবুল চকিদার নামের আরেকজন ব্যক্তি বলেন, মাছের বাজারে গিয়ে হাঁপ কেজি চিংড়ী মাছ কিনেছি ৩৫০ টাকা দিয়ে, এক কেজি আলু কিনেছি ৭০ টাকা দিয়ে। যেভাবে দিন দিন তরিতরকারির দাম বাড়ছে তাতে মানুষের বাজার করে খাওয়া দায় হয়ে পড়েছে মহিপুর বাজারের মোঃ আলমগীর নামের ব্যবসায়ী জানান, তারা পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে মাল কিনে খুচরা দামে বিক্রি করছেন। তাদের কাছে পাইকারি বাজারে বেগুনের দাম ধরা হচ্ছে ৮০ টাকা আর সেই বেগুন খুচরা বাজারে বিক্রি করছি ৮৫/৯০ টাকা দরে।
পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় তারা বেশি দামে মাল কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৩৩:৩৪ ● ৫১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ