রবিবার ● ১৯ এপ্রিল ২০২৬
চরফ্যাশনে আ:লীগের চেয়ারম্যানকে শেল্টার দেওয়ার দ্বন্দ্ব: বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
হোম » লিড নিউজ » চরফ্যাশনে আ:লীগের চেয়ারম্যানকে শেল্টার দেওয়ার দ্বন্দ্ব: বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
চরফ্যাশনের দক্ষিণ আইচা থানার নজরুল নগর ইউনিয়নে তৎকালীন আওয়ামী লীগ মনোনিত চেয়ারম্যানকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত ১৮ এপ্রিল (শনিবার) সন্ধ্যায় সুলিজ বাজারে এক বিএনপি নেতার ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা এলাকায় পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ অবস্থায় বিএনপির নামধারী কিছু ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে তাদের শেল্টার দিচ্ছে এবং স্থানীয় প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলায় জড়িত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে মাইন উদ্দিন, লতিফ, ইসমাইল, এরশাদ ও মনির হিরণদের সঙ্গে স্থানীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে সাদ্দাম নামের এক যুবকের ওপর। অভিযোগ অনুযায়ী, মাইন উদ্দিন ও তার সহযোগীরা তাকে পথরোধ করে মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে এবং বাজারের কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এর পাঁচ দিন পর শনিবার সন্ধ্যায় একই বাজারে লাল মিয়া পেদার ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালানো হয়। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হামলাকারীরা মৃত ভেবে ফেলে যায় বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
বর্তমানে বাবা ও ছেলে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লাল মিয়ার শরীরে গভীর ক্ষত রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রয়োজন হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হতে পারে।
হাসপাতালের শয্যায় লাল মিয়া পেদা অভিযোগ করে সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিনকে এলাকায় পুনর্বাসন করতে একটি পক্ষ সক্রিয় হয়েছে। তারা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রকৃত কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। আমি প্রতিবাদ করায় আমার ছেলেকে আগে মারধর করা হয়, পরে আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’
এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দলীয়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় আহতদের স্বজনরা দুইটি পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।
বাংলাদেশ সময়: ২১:১০:১২ ● ৯৫ বার পঠিত
