সোমবার ● ১৩ এপ্রিল ২০২৬

চরফ্যাশন ও মনপুরার হাটবাজার ইজারামুক্ত ঘোষণা, খাজনা ও পরিবহন টোল মওকুফ

হোম পেজ » লিড নিউজ » চরফ্যাশন ও মনপুরার হাটবাজার ইজারামুক্ত ঘোষণা, খাজনা ও পরিবহন টোল মওকুফ
সোমবার ● ১৩ এপ্রিল ২০২৬


 

সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)

ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য সকল হাটবাজার ইজারামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের উদ্যোগে খাজনা ও বিভিন্ন ধরনের পরিবহন টোল আদায় বন্ধ করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা ও পৌরসভার আওতাধীন হাটবাজারগুলোতে আর কোনো খাজনা বা টোল আদায় করা হবে না। একই সঙ্গে বিভিন্ন পরিবহন থেকেও টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলায় পৌরসভাসহ ২২টি ইউনিয়ন ও ৪টি থানার অধীনে মোট ৬১টি হাটবাজার ছিল। এর মধ্যে নদীভাঙনে ২টি বাজার বিলীন এবং আরও ৩টি বাজার কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বর্তমানে সচল হাটবাজারের সংখ্যা ৫৬টি।

 

সরকারি নির্ধারিত হিসেবে এসব হাটবাজার থেকে বার্ষিক রাজস্ব ছিল ৮২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫০ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী এর সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ জামানত, ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ আয়কর যুক্ত হয়ে প্রায় ১৬ লাখ ৫১ হাজার ২৫০ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধের বিষয় ছিল।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, জনস্বার্থে এই সম্পূর্ণ অর্থ সরকারি কোষাগারে নিজ উদ্যোগে পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন। একই সঙ্গে চরফ্যাশন পৌরসভার ১৩টি বাজারের জন্য জামানত, ভ্যাট ও আয়কর বাবদ প্রায় ১ কোটি ২ লাখ টাকাও তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিশোধ করেছেন। ফলে হাটবাজারগুলো সম্পূর্ণ ইজারামুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

 

এ উদ্যোগের আওতায় শুধু হাটবাজার নয়, বিভিন্ন পরিবহন থেকেও টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বোরাক, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, ট্রাক, টলি, ভ্যান, নসিমন ও সিএনজিচালিত যানবাহন। এতে পরিবহন শ্রমিক ও চালকরাও উপকৃত হচ্ছেন।

 

ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাটবাজারে খাজনা ও ইজারার চাপ তাদের জন্য বড় আর্থিক বোঝা ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে এবং পণ্যের দামও কিছুটা সহনীয় হতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

 

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলী হোসেন সাগরকন্যাকে বলেন, ‘আগে প্রতিদিনই খাজনা দিতে হতো, এতে লাভ কমে যেত। এখন কিছুটা স্বস্তিতে ব্যবসা করতে পারবো।’

 

ভ্যানচালক হেজন আলী বলেন, ‘টোল বন্ধ হওয়ায় আমাদের আয় বাড়বে, পরিবার চালাতে সুবিধা হবে।’

 

স্থানীয় মহলের মতে, উপকূলীয় এ অঞ্চলে এমন উদ্যোগ অর্থনৈতিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশ সময়: ২০:১১:১৫ ● ২৪ বার পঠিত