শনিবার ● ১১ এপ্রিল ২০২৬

চরফ্যাশনে ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে বিতর্ক, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ আহত ২

হোম পেজ » ভোলা » চরফ্যাশনে ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে বিতর্ক, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ আহত ২
শনিবার ● ১১ এপ্রিল ২০২৬


 

চরফ্যাশনে ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে সংঘর্ষ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ আহত ২

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)

চরফ্যাশন উপজেলার চর মানিকা ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণের তালিকা প্রণয়নকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিনারা বেগম ও তাঁর স্বামী আবুল কালাম ফরাজী আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত আটটার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

 

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, চর মানিকা ইউনিয়নে ১ হাজার ২০০ জেলের জন্য চার মাসে (মার্চ–জুন) ৪০ কেজি করে মোট ১৯২ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রথম দফায় দুই মাসের জন্য ৯৬ টন চাল উত্তোলন করা হয় এবং তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। তবে কার্ডধারী জেলে ১ হাজার ২০০ জন হলেও প্রকৃত জেলের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ২০০। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে প্রথম দুই মাসে এবং বাকি জেলেদের পরবর্তী দুই মাসে চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা তাদের প্রণীত তালিকা অনুযায়ী চাল বিতরণের দাবি জানান এবং প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে অন্য পেশার দলীয় কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

 

বৈঠকে সাবেক ইউপি সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান, দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু তাহের, বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান হাওলাদার, ইউনিয়ন সচিব মো. ইয়ামিন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিনারা বেগম ও তাঁর স্বামী উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে তালিকা নিয়ে মতবিরোধের জেরে বৈঠক থেকে বের হয়ে যান বিএনপি নেতারা। পরে পরিষদ থেকে বের হলে চেয়ারম্যান ও তাঁর স্বামীর ওপর হামলা, মারধর, মুঠোফোন ভাঙচুর ও মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

 

দক্ষিণ আইচা থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. আহসান কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

 

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ইয়ামিন বলেন, ‘দলীয় প্রভাবের কারণে তালিকা প্রণয়ন ও চাল বিতরণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। একজন জেলে ১৬০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও এখন ৪০ কেজি করে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিনারা বেগম সাগরকন্যাকে বলেন, ‘প্রকৃত জেলেদের তালিকা করার কথা থাকলেও বিএনপি নেতারা তাদের কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেন। বাধা দেওয়ায় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা আইনগত পদক্ষেপ নেব।’

 

তবে দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু তাহের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা কোনো অনিয়ম করিনি। আমাদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ীই চাল বিতরণের দাবি জানানো হয়েছিল। চেয়ারম্যান ও তাঁর স্বামীর বাধার কারণেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।’

 

ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২১:৪১:১৯ ● ৩৮ বার পঠিত