সোমবার ● ৯ মার্চ ২০২৬
বেনাপোল কাস্টমসে আট মাসে ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি
হোম পেজ » খুলনা » বেনাপোল কাস্টমসে আট মাসে ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বেনাপোল (যশোর)
বেনাপোল কাস্টম হাউসে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ সময়ে ঘাটতির পরিমাণ ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আট মাসে ৬৮ হাজার ৮৬টি ট্রাকে মোট ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৫২১ দশমিক ৮৪ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি হয়েছে ১১ লাখ ১০ হাজার ৯০৩ দশমিক ৮১ মেট্রিক টন এবং রপ্তানি হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৬১৮ দশমিক ৬১ মেট্রিক টন।
আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে এক লাখ ৪৩ হাজার ৩৩৬টি ট্রাকে ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৮০ দশমিক ৬৯ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়েছিল। এর মধ্যে আমদানি ছিল ২০ লাখ ১১ হাজার ২৬৭ দশমিক ৫৯ মেট্রিক টন এবং রপ্তানি ৪ লাখ ২১ হাজার ৭১৩ মেট্রিক টন।
কাস্টমস ও বন্দর সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক শীতল হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে পড়েছে। এর কারণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই গতিপ্রকৃতি কমেছে। আগে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৫৫০ ট্রাক আমদানি হতো, এখন তা ২৫০-৩০০ ট্রাকে নেমেছে। রপ্তানির ক্ষেত্রেও আগে গড়ে ৩০০ ট্রাক ছিল, এখন প্রায় ১৫০ ট্রাক। এই বড় ধরনের পতনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আয়েও।
বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি-বাণিজ্যের স্থবিরতা, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বন্দরের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম মিলিতভাবে বেনাপোল কাস্টমের রাজস্ব সংকটকে আরও গভীর করেছে। তাদের মতে, গত এক দশকে এত বড় রাজস্ব ঘাটতি খুব কমই দেখা গেছে।
আমদানিকারক বাবলুর রহমান বলেন, আমরা নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে চাই। তবে নতুন সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পর্কের উন্নতি ঘটলে আশা করি ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রসার ঘটবে।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাজেদুর রহমান জানান, আগে প্রতিদিন প্রায় ৫০০-৫৫০ ট্রাক আমদানি হতো, এখন তা কমে ২৫০-৩০০ ট্রাকে নেমেছে। রপ্তানির ক্ষেত্রেও একই হ্রাস। এর ফলে রাজস্ব আয়ও স্বাভাবিকভাবেই কমেছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা মনিবুর রহমান বলেন, আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব কমেছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জোরদারে আমরা কাজ করছি। আশা করি জুনের মধ্যে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫৭:২০ ● ২১ বার পঠিত
