সোমবার ● ২ মার্চ ২০২৬
বরগুনায় সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনার শীর্ষে যারা
হোম পেজ » বরগুনা » বরগুনায় সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনার শীর্ষে যারা
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করেছে। সংবিধান অনুযায়ী ৩৫০ আসনের সংসদে ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত, যা দলীয় অনুপাতের ভিত্তিতে বণ্টিত হয়। বরগুনা জেলা থেকে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে কয়েকজনের নাম ঘুরে বেড়ালেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অধ্যাপক নূর শাহানা হক ও বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রনজুয়ারা সিপু।
বরগুনা সদর উপজেলার প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম ফজলুল হক ছগীরের সহধর্মিণী অধ্যাপক নূর শাহানা হক দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক দলীয় রাজনীতিতেও সক্রিয়। তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের সম্পৃক্ত করে নির্বাচনী প্রচারণায় ভূমিকা রাখার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, দল মনোনয়ন দিলে নারীর ক্ষমতায়ন ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবেন।
অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট রনজুয়ারা সিপু জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় ২৪ বছরের আইনপেশায় তিনি প্রান্তিক নারীদের আইনি সহায়তা দিয়ে পরিচিতি অর্জন করেছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও তৃণমূল সম্পৃক্ততার কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে তাঁকে নিয়ে প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি জানান, দলীয় চেয়ারপার্সন মনোনয়ন দিলে বরগুনাবাসীর কল্যাণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন।
এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মেহবুবা আক্তার জুঁই, যিনি জাতীয় পর্যায়ের আইনগত অভিজ্ঞতার কারণে গুরুত্ব পাচ্ছেন। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে নাজমুন নাহার পাপড়ি সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন।
পাথরঘাটা উপজেলার অ্যাডভোকেট মারজিয়া হীরা বর্তমানে ঢাকা নারী ও শিশু আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতাও আলোচনায় রয়েছে।
জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভানেত্রী ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শারমিন সুলতানা আসমা মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন সক্রিয়। কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক আসমা আজিজও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আছেন।
জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য ইশরাত জাহান রিক্তা দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ও নির্বাচনী প্রচারণায় ভূমিকার কারণে আলোচনায় রয়েছেন। শিক্ষা ও সাহিত্যচর্চায় সম্পৃক্ত জাকিয়া সুলতানা শিরিনও সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
এ ছাড়া আমতলী উপজেলার মীরা খান দীর্ঘদিন তৃণমূল রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করে আসছেন।
দলীয় হাই কমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা-এই তিন মানদণ্ডই মনোনয়ন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এমএইচকে/এমআর
বাংলাদেশ সময়: ১৪:২০:১৬ ● ২৩ বার পঠিত
