মঙ্গলবার ● ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বয়স বয়স বাড়িয়ে মামলা ম্যাজিক দেখাতে গিয়ে সহপাঠীর দগ্ধের ঘটনায় শিশু রিমাজ গ্রেপ্তার

হোম পেজ » ঢাকা » বয়স বয়স বাড়িয়ে মামলা ম্যাজিক দেখাতে গিয়ে সহপাঠীর দগ্ধের ঘটনায় শিশু রিমাজ গ্রেপ্তার
মঙ্গলবার ● ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


 

বয়স বয়স বাড়িয়ে মামলা, ম্যাজিক দেখাতে গিয়ে সহপাঠীর দগ্ধের ঘটনায় শিশু রিমাজ গ্রেপ্তার

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষির গ্রামে মুখে পেট্রোল নিয়ে আগুনে ফু দিয়ে ম্যাজিক দেখাতে গিয়ে সহপাঠী মারুফ শেখ দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রিমাজ শেখ (১২)কে বয়স ১৯ বছর উল্লেখ করে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। পরে আগুন লাগার এ ঘটনায় রিমাজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় মুকসুদপুর থানা পুলিশ। শিশুটির মুক্তির দাবিতে তার পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহায়তা কামনা করেছে।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে ননীক্ষির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে একটি ব্রিজের ওপর এ ঘটনা ঘটে। আহত মারুফ শেখের মা মুঞ্জু বেগম মামলায় অভিযোগ করেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে রিমাজ শেখ তার ছেলের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যাচেষ্টা করে। এ সময় রিমাজের বাবা আলী শেখ ও মা নাছিমা বেগম মারধর করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তবে গ্রেপ্তার রিমাজের মা নাছিমা বেগম বলেন, ঘটনার দিন তিনি ও তার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। দুর্ঘটনার পর সন্ধ্যায় মারুফের পরিবার তাদের ছেলেকে বাড়ি থেকে নিয়ে মারধর করে ছেড়ে দেয়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মাদারীপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিন দিন চিকিৎসার শেষে বাড়ি ফেরার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি দাবি করেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের স্বামী-স্ত্রীকেও মামলায় জড়ানো হয়েছে।

ননীক্ষির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শোভা রানী বিশ্বাস সাগরকন্যাকে বলেন, ঘটনার দিন দুই ছাত্রই স্কুলে অনুপস্থিত ছিল। স্কুলের পাশের ব্রিজে তারা মুখে পেট্রোল নিয়ে ম্যাজিক দেখাতে গিয়ে আগুনে দগ্ধ হয়। বিষয়টি জানার পর স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

সহপাঠী রকিবুল ইসলামের ভাষ্য, রিমাজ মুখে পেট্রোল নিয়ে আগুনে ফু দেওয়ার সময় সামনে থাকা মারুফের মুখ ও গায়ে আগুন লেগে যায়। তারা দুজনই ম্যাজিক দেখাতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।

এদিকে খেলার ছলে এমন ঘটনায় মামলা ও ১২ বছরের শিশুকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং গ্রেপ্তারকৃত রিমাজের মুক্তি দাবি করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুকসুদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রিমাজ ৬০ টাকা দিয়ে পেট্রোল কিনে এনে মুখে নিয়ে সামনে আগুন রেখে ফু দেওয়ার সময় মারুফের গায়ে আগুন লাগে। এছাড়া মামলার অন্য আসামি হিসেবে উল্লেখ থাকা তার বাবা-মা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তিনি জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসারও চেষ্টা ছিল।

বাংলাদেশ সময়: ১৩:৫৫:১৬ ● ২১ বার পঠিত