মঙ্গলবার ● ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ত্রিমুখী লড়ায়ের ইঙ্গিত আওয়ামী লীগ মাঠে নেই, তবু তাদের ভোটই ফ্যাক্টর বরিশাল-১ আসনে
হোম » বিশেষ প্রতিবেদন » ত্রিমুখী লড়ায়ের ইঙ্গিত আওয়ামী লীগ মাঠে নেই, তবু তাদের ভোটই ফ্যাক্টর বরিশাল-১ আসনে

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিল সমীকরণ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় ব্যালটে নেই আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক, তবে দলটির সমর্থক ভোটাররা ভোটার তালিকায় রয়েছেন। ফলে নতুন ভোটার, আওয়ামী লীগ ও হিন্দু সমর্থক ভোট- এই তিনটি বড় ফ্যাক্টরকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ।
বাইরে থেকে পরিস্থিতি শান্ত মনে হলেও ভেতরে চলছে টানটান প্রতিযোগিতা। রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে উন্নয়ন, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও প্রার্থীর মাঠপর্যায়ের উপস্থিতিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটাররা- এমন ধারণা সংশ্লিষ্টদের। প্রকাশ্যে অবস্থান না নেওয়া নীরব ভোটাররা শেষ মুহূর্তে যেদিকে ঝুঁকবেন, সেদিকেই যেতে পারে নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে তিনি নিয়মিত এলাকায় সময় দিচ্ছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় সাংগঠনিক ভোটব্যাংক তার শক্তি হলেও, একই ভোটব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিভাজন তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বিভাজনের কেন্দ্রে রয়েছেন ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য থাকা অবস্থায় দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন এবং পরে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। বহিষ্কারের পরও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন তিনি। হিন্দু অধ্যুষিত আগৈলঝাড়া উপজেলায় তার বাড়ি হওয়ায় ব্যক্তিগত পরিচিতি ও সামাজিক প্রভাব তাকে ওই এলাকায় শক্ত অবস্থানে রেখেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সংখ্যালঘু ভোটও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম খান শুরু থেকেই সংগঠিত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় কর্মীবাহিনী ও ভোটব্যাংক তার বড় শক্তি। বিএনপির ভোট বিভাজন এবং নতুন, আওয়ামী লীগ ও হিন্দু ভোটের একটি অংশ তার দিকে গেলে লড়াইয়ের মোড় ঘুরে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. রাসেল সরদার মেহেদী এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) মনোনীত বাইসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী ছেরনিয়াবাত সেকান্দার আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও মাঠপর্যায়ে তাদের উপস্থিতি সীমিত বলেই মনে করছেন ভোটাররা।
বরিশাল-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৬৪ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৩৪ জন। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১২৯টি।
সব মিলিয়ে দলীয় রাজনীতি, স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্থানীয় প্রভাব এবং নতুন, হিন্দু ও আওয়ামী লীগ ভোটের সমীকরণে বরিশাল-১ আসনে তৈরি হয়েছে টানটান নির্বাচনী পরিস্থিতি। শেষ মুহূর্তের নীরব ভোটই নির্ধারণ করে দিতে পারে এই আসনের ভাগ্য।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:০৯:৪৬ ● ১০৯ বার পঠিত
