মঙ্গলবার ● ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ধানের শীষ-হাতপাখা নিরব ভোটারদের হিসাবেই নির্ধারিত হতে পারে বরগুনা-১ আসনের ফলাফল

হোম পেজ » বিশেষ প্রতিবেদন » মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ধানের শীষ-হাতপাখা নিরব ভোটারদের হিসাবেই নির্ধারিত হতে পারে বরগুনা-১ আসনের ফলাফল
মঙ্গলবার ● ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


 

নিরব ভোটারদের হিসাবেই নির্ধারিত হতে পারে বরগুনা-১ আসনের ফলাফল

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ (বরগুনা সদর, তালতলী ও আমতলী) আসনে সোমবার আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয়েছে। ধানের শীষ ও হাতপাখার প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগের নিরব ভোটাররা। নির্বাচন মাঠে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে দলটি সরাসরি না থাকলেও ভোটের অঙ্কে তাদের প্রভাব থাকছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

স্থানীয় রাজনীতিক, ভোটার ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট যেদিকে বেশি যাবে, শেষ পর্যন্ত জয় সেদিকেই ঝুঁকতে পারে। তবে এ দুই শ্রেণির বেশিরভাগ ভোটার এখনো প্রকাশ্যে অবস্থান জানাচ্ছেন না। সামান্য ব্যবধানও ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। মাঠের হিসেবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে চরমোনাই পীরের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী কেওড়াবুনিয়া দরবার শরীফের পীর মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহর।

 

অতীতে বরগুনা-১ আসনে ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির আব্দুর রহমান খোকন এবং একই বছরের জুন নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বিজয়ী হন। ২০০১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন নির্বাচিত হন। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বিজয়ী হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম সরওয়ার টুকু ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন।

 

এবারের নির্বাচনে এ আসনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা সবাই বরগুনা সদরের বাসিন্দা। মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহর মধ্যে। এছাড়া ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন (দেয়াল ঘড়ি) এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী জামাল হোসাইন (সাইকেল) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের প্রচার ও জনসমর্থন তুলনামূলক কম বলে মনে করছেন ভোটাররা।

 

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫১ জন। এর মধ্যে পায়রা নদীর পূর্ব পাড়ের আমতলী ও তালতলী উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৮ জন, যা বরগুনা সদরের তুলনায় প্রায় ২৪ হাজার বেশি। ফলে এ দুই উপজেলার ভোট নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আমতলী ও তালতলী উপজেলার কোনো প্রার্থী না থাকায় তাদের ভোট কোন দিকে যাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

ভোটারদের কাছে টানতে কৌশলী প্রচার চালাচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা। নারী ও তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্ত্রী লুবনা ইসলাম ও ছেলে উচ্ছ্বাস মোল্লাকে মাঠে নামিয়েছেন। তারা গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করছেন।

মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, বরগুনা-১ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়। ধানের শীষের পক্ষে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।

তিনি জানান, বরগুনা-১ আসনে দীর্ঘদিন উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি, বিশেষ করে বরগুনার সঙ্গে আমতলী ও তালতলীর যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক। নির্বাচিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং আমি সরকারি দলের এমপি হলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বরগুনায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

 

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ বলেন, ভোটাররা এখন সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব চান। আমরা দলীয় ভোটের পাশাপাশি সব সম্প্রদায়ের সমর্থন চাই। আমি এমপি হলে সবাইকে নিয়ে কাজ করব। তিনি বলেন, জনগণ এবার ভালো মানুষকে ভোট দেবেন। একটি দল গত ১৭ মাসে লুটপাট ও চাঁদাবাজি করেছে দাবি করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তাদের ভোট দেবে না। তিনি অভিযোগ করেন, সোমবার তার শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রতিদ্বন্দ্বীরা বাধা দিয়েছেন। তবে বাধা সত্ত্বেও জনসভায় ব্যাপক উপস্থিতি হয়েছে বলে জানান তিনি। তার দাবি, আমতলী ও তালতলীতে হাতপাখার পক্ষে বেশি ভোট পড়বে এবং বরগুনায় তিনি বিএনপির চেয়ে বেশি ভোট পাবেন।

বাংলাদেশ সময়: ১২:৫৮:৫৭ ● ৮২ বার পঠিত