শুক্রবার ● ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংস্কারের পর প্রস্থ কমল ৬ ফুট, ঝুঁকিতে কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়ক

হোম পেজ » লিড নিউজ » সংস্কারের পর প্রস্থ কমল ৬ ফুট, ঝুঁকিতে কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়ক
শুক্রবার ● ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


 

সংস্কারের পর প্রস্থ কমে ৬ ফুট, ঝুঁকিতে কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়ক

মেজবাহউদ্দিন মাননু 

কলাপাড়া-কুয়াকাটা ২২ কিলোমিটার সড়কের ১১ কিলোমিটার সংস্কারের পরে প্রস্থ কমে গেছে ৪-৬ ফুট। ফলে ওই ১১ কিলোমিটার পথে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাখিমারা থেকে মহিপুর খাপড়াভাঙ্গা সেতু পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়কের এমন অবস্থায় এখন বাসসহ সব যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়ছে।

 

বাস-অটোচালক ও স্থানীয়রা জানান, এই সড়কটির প্রস্থ ছিল প্রায় ২৪ ফুট। কিন্তু গেল বছর সংস্কারকালে এই ১১ কিলোমিটার অংশ সর্বোচ্চ ১৮-১৯ ফুট করা হয়েছে। কলাপাড়া থেকে পাখিমারা কিংবা আলীপুর টোল পয়েন্ট থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কের পাশে এখনো ২৩-২৪ ফুট প্রস্থ রয়েছে। অথচ এই ১১ কিলোমিটার অংশের প্রস্থ কমানো হয়েছে।

 

২০০৯-২০১৪ অর্থবছরে এই সড়কের পাখিমারা থেকে খাপড়াভাঙ্গা সেতু পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার অংশের উন্নয়নকাজ করে ‘রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তখন ওই অংশের জন্য ২০ কোটি টাকা ব্যয়-বরাদ্দ ছিল। কাজটি মানসম্মত না হওয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আট কোটি টাকার বিল আটকে দেয়। এর প্রেক্ষিতে রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম চূড়ান্ত বিল দাবি করে ২০১৪ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত মামলার প্রেক্ষিতে ১১ কিলোমিটার সড়কের ওপর সংস্কারকাজে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে রাস্তাটির সংস্কারকাজ ঝুলে যায়। ১০ বছরে খানাখন্দে একাকার হয়ে পড়ে ওই ১১ কিলোমিটার অংশ।

 

অবশেষে গত বছর আদালত ওই ১১ কিলোমিটার অংশের সংস্কারকাজের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন। এরপর সড়কের ১১ কিলোমিটার অংশ সংস্কার করা হয়। কিন্তু ২৪ ফুট প্রস্থের সড়কটি সংস্কার করতে গিয়ে প্রস্থ কমিয়ে ১৮-১৯ ফুট করা হয়েছে। এখন সড়কটির ওই ১১ কিলোমিটার অংশে ৫-৬ ফুট প্রস্থ কমে গেছে। ফলে দূরপাল্লার ঢাকা-কুয়াকাটাগামী প্রতিদিন শত শত পরিবহন ও স্থানীয় রুটের বাস ওই অংশে পাশাপাশি ক্রস করতে গিয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়ছে। আবার অটোবাইক, মোটরসাইকেল কিংবা সিএনজি চলাচলের সময় বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগছে। ঘটছে মারাত্মক দুর্ঘটনা। গত এক মাসে এই সড়কে তিনটি দুর্ঘটনায় চারজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

 

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’র সভাপতি নাজমুস সাকিব জানান, তিনি মেপে দেখেছেন—পাখিমারা থেকে মহিপুর পর্যন্ত সংস্কারের পরে সড়কটির প্রস্থ এখন ১৮-১৯ ফুট। আর কলাপাড়া থেকে পাখিমারা অংশের প্রস্থ ২৩-২৪ ফুট। সংস্কারের সময় ৫-৬ ফুট প্রস্থ কম করা হয়েছে।

 

বাসচালক আল আমিন জানান, কলাপাড়া থেকে পাখিমারা পর্যন্ত তারা স্বস্তিতে গাড়ি চালিয়ে এসে পাখিমারা থেকে মহিপুর বন্দর পর্যন্ত যেতে সমস্যার মুখোমুখি হন। দুটি গাড়ি চলাচল করতে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে হয়। অটোচালক বশির উদ্দিন জানান, পাখিমারা থেকে মহিপুর পর্যন্ত রাস্তাটি মেরামতের সময় ৫-৬ ফুট পাশে কম করা হয়েছে। ফলে প্রায়ই যাত্রী নিয়ে চলাচলে সমস্যা হয়। অনেক সময় বাসকে সাইড দিতে গিয়ে রাস্তার বাইরে পড়ে যেতে হয়।

 

এ ব্যাপারে কথা বলতে সড়ক ও জনপথ, পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলীকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানান, বিষয়টি পটুয়াখালী জেলার মাসিক সভায় উপস্থাপন করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৩:২৫ ● ৩৭ বার পঠিত