মঙ্গলবার ● ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় নুর, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ঘিরে কড়া নজরদারির দাবি
হোম পেজ » লিড নিউজ » নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় নুর, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ঘিরে কড়া নজরদারির দাবি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালী-৩ আসনে নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা ও আতঙ্ক। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রকাশ্যে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারির দাবি তুলেছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় ভোটারদের মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনে এবারের নির্বাচন চারমুখী। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জোটপ্রার্থী নুরুল হক নুর, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক শাহ আলম এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আবু বকর।
নিরাপত্তা নিয়ে নুরের শঙ্কার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত ১১টা ১০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে নুর দাবি করেন, নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে দেশি-বিদেশি অপশক্তি সক্রিয় হয়েছে। তাঁর ভাষায়, হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে এবং জাতীয় পর্যায়ের আলোচিত প্রার্থীদের লক্ষ্য করে সহিংসতা ও নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে ঘিরে সরাসরি সতর্কবার্তা দেন নুর। তাঁর অভিযোগ, মামুনকে কেন্দ্র করে এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়েছে এবং পরিকল্পিত অশান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনই কঠোর নজরদারি না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
নুরের অভিযোগ, শনিবার রাতে পানপট্টি এলাকায় লিফলেট বিতরণ শেষে ফেরার পথে তাঁর এক কর্মী রাকিবের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এর আগে চরকপালভেরা এলাকায় হামলার শিকার হন শ্রমিক অধিকার পরিষদের নেতা রিয়াজ। রবিবার সন্ধ্যার পর চিকনিকান্দি থেকে ফেরার সময় ডাকুয়া স্লুইজ বাজারে পথরোধ করে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ‘হাসান মামুনের লোক’ পরিচয় দিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করে বলেও অভিযোগ করেন নুর। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর কর্মীরা সেখান থেকে সরে আসেন।
এ বিষয়ে নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে এলাকা অশান্ত করার চেষ্টা চলছে এবং হাসান মামুনকে কেন্দ্র করেই এই তৎপরতা জোরদার হয়েছে। তিনি জেলা পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানিয়ে নির্বাচনী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো ও নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ১৮ জানুয়ারি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের বক্তব্য জানতে পটুয়াখালী ও গলাচিপার সাংবাদিকরা যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি মুঠোফোনে সাড়া দেননি।
পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ সাংবাদিকদের বলেন, প্রার্থী নিজেই মুঠোফোনে বিষয়গুলো জানিয়েছেন। অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার জানান, নুরের অভিযোগ প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং যাচাই-বাছাই করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, যুগপৎ আন্দোলনে সমঝোতার অংশ হিসেবে পটুয়াখালী-৩ আসনটি নুরুল হক নুরের জন্য ছেড়ে দেয় বিএনপি। তবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির নির্বাহী সদস্য হাসান মামুন নির্বাচনে প্রার্থী হন। এ কারণে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে নুরের বিরুদ্ধে প্রচারণা ও মামুনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির দুটি কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৪:৪০:০৬ ● ২২ বার পঠিত
