রবিবার ● ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

প্যারোলের আবেদন ছাড়াই স্ত্রীর মরদেহ দেখার অনুমতি সাদ্দামের

হোম পেজ » খুলনা » প্যারোলের আবেদন ছাড়াই স্ত্রীর মরদেহ দেখার অনুমতি সাদ্দামের
রবিবার ● ২৫ জানুয়ারী ২০২৬


 

প্যারোলের আবেদন ছাড়াই স্ত্রীর মরদেহ দেখার অনুমতি সাদ্দামের

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট

বাগেরহাটে জানাজা শেষে মা ও ৯ মাসের শিশু সন্তানকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। এর আগে মানবিক বিবেচনায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ পান নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন করা হয়নি।

 

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে জানাজা শেষে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) ও তার ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান নাজিমকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় আত্মীয়স্বজনরা মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে পৌঁছান। প্যারোলের আবেদন না করেই তারা মরদেহ নিয়ে কারাগারে যান।

 

বিষয়টি জানার পর বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন সার্বিক সহযোগিতা করেন। তাদের সহায়তায় যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান এবং যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. আসিফ উদ্দিন মানবিক বিবেচনায় কারাগারের ভেতরে সাদ্দামকে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করেন। এ সময় ছয়জন নিকট আত্মীয়সহ মরদেহ কারাগারের ভেতরে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ মিনিটের জন্য তিনি শেষবারের মতো স্ত্রী ও সন্তানকে দেখেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী।

 

সাদ্দামের শ্বশুর, জাতীয় পার্টি নেতা মো. রুহুল আমিন জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে মরদেহ নিয়ে কারাগারে পৌঁছানো হয়। দুটি মাইক্রোবাসে ১২-১৫ জন আত্মীয়স্বজন ছিলেন। সময় স্বল্পতার কারণে নিয়ম অনুযায়ী প্যারোলের আবেদন করা সম্ভব হয়নি। তবে কারা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের মানবিক ভূমিকার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

এর আগে শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় তার ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহ। নিহতের পরিবার ও পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, মানসিক হতাশা থেকে সন্তানকে হত্যার পর তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ জানায়, সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং শিশুটির মরদেহ মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

ইতিপূর্বে কানিজ সুবর্ণা আদালতের মাধ্যমে টুঙ্গিপাড়া থানায় তার স্বামী জুয়েল হাসান সাদ্দামের বিরুদ্ধে একটি যৌতুক মামলা (নম্বর-৩১৭/২৫) দায়ের করেন। ওই মামলায় সাদ্দামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে। সাদ্দাম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি।

 

যশোর জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা আশীষ কুমার দাস রবিবার (২৫ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ বরাবর কোনো আবেদন করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্যারোল সংক্রান্ত যেসব তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো ভিত্তিহীন। পরিবারের মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে মানবিক বিবেচনায় কারা ফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানও জানান, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন তারা পাননি এবং বাগেরহাটে আবেদন করার বিষয়েও তিনি অবগত নন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। বর্তমানে একাধিক মামলায় তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর তার নির্যাতনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠেছিল। ওইসব নির্যাতিত ব্যক্তি তাকে পেলে হত্যা করতে পারে- এই আশঙ্কা থেকেই পরিবারের সদস্যরা প্যারোলে তাকে এলাকায় আনতে চাননি বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বজন জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৫:০৯ ● ২৬ বার পঠিত