বুধবার ● ১৯ নভেম্বর ২০২৫

কলাপাড়ায় ৪০ বছর পর হলো মুচি-ছাতা ব্যবসায়ীদের স্থায়ী কর্মস্থল

হোম পেজ » বিশেষ প্রতিবেদন » কলাপাড়ায় ৪০ বছর পর হলো মুচি-ছাতা ব্যবসায়ীদের স্থায়ী কর্মস্থল
বুধবার ● ১৯ নভেম্বর ২০২৫


কলাপাড়ায় ৪০ বছর পর হলো মুচি-ছাতা ব্যবসায়ীদের স্থায়ী কর্মস্থল

সাগরকন্যা প্রতিবেদন, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

অন্তত চারটি দশক ধরে বাব-দাদার পেশায় যোগান দিচ্ছেন পরেশ চন্দ্র ও গোবিন্দ। নিজেদের চুলেও পাক ধরেছে। রাস্তার পাশের ফুটপাতেই কেটেছে জীবনের অধিকাংশ সময়। জীবিকার চাকায় যোগান দিতে গিয়ে রোদে পুড়েছেন, আবার ভিজেছেন বৃষ্টিতে। ঝড়-বৃষ্টির দিনে দোকান চলতো না; বন্ধ থাকতো। দোকান বলতে গেলে দুটি হাত বা দুই হাতের একটি বাক্স। তার মধ্যে পুরনো জুতা-স্যান্ডেল সেলাই কিংবা জোড়াতালি দেয়ার মধ্য দিয়ে উপার্জিত টাকায় এদের মতো ১০টি পরিবারের জীবিকার চাকা চলত।

হাটাচলার রাস্তার ফুটপাতের জায়গা থেকে এঁদের অপসারণ করে স্থায়ী একটি জায়গায় দোকান করার জন্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাব-দাদার পরে নিজেদের পেশায় নিশ্চিত জায়গা পেয়ে এই ১০টি মুচি পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। এই হতদরিদ্র পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য কলাপাড়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ একটি টিনশেড ঘরসহ নির্দিষ্ট মাপের জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরসহ জায়গাটি বুঝিয়ে দেওয়ার পর থেকে তিনি প্রশংসায় ভাসছেন।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরের নতুন বাজারে এই দরিদ্র ১০ পরিবারকে উপার্জনযোগ্য স্থায়ী জায়গা দেওয়া হয়। পরিবারগুলো স্থায়ী অবলম্বন পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। শুধু এই ১০ পরিবার নয়- রাস্তার পাশে বসে একই স্থানে পুরনো-ছেঁড়া ছাতা মেরামতকারী চারজন হতদরিদ্র কর্মজীবী, একজন কামার ও দুইজন ক্ষুদে দোকানি চা বিক্রেতাকেও ওই টিনশেড ঘরের পাশে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযানে মুচি ও ছাতা মেরামতকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পৌর প্রশাসক তখন তাদের বিকল্প স্থানের আশ্বাস দেন। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার মহিলা মার্কেট ঘেষা পাকা ফ্লোর ও টিনশেড ছাউনিযুক্ত কর্মস্থলের স্থায়ী জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পৌরসভার অর্থায়নে এটি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও কাউছার হামিদ।

পরেশ ও গোবিন্দ সাগরকন্যাকে বলেন, আমাদের এভাবে স্থায়ী ব্যবস্থা করবেন, এটি ভাবতেও পারিনি। চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর ধরে রাস্তার পাশে কষ্ট করেছি, কিন্তু কেউ এমনিভাবে আমাদের কথা ভাবেননি। পুনর্বাসিত হওয়ায় স্বস্তিতে কাজ করছি। মনের অনিশ্চয়তা ও উচ্ছেদের শঙ্কা আর রইল না।

কলাপাড়া পৌরশহর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, পৌর প্রশাসক জায়গা নির্ধারণ করার পর আমরা সমিতির পক্ষ থেকে মুচি ও ছাতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে জায়গাগুলো সমবন্টন করেছি।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কাউছার হামিদ বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে তাদের বসার স্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো ভাড়া দিতে হবে না এবং ভবিষ্যতে কাউকে উচ্ছেদও করা হবে না।

এদিকে, কর্মজীবী মানুষগুলো ছাড়াও সচেতন মহল পৌরপ্রশাসক ও ইউএনও কাউছার হামিদের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:১৩:৩২ ● ১৮৮ বার পঠিত