বৃহস্পতিবার ● ৫ নভেম্বর ২০২৬

বরগুনায় ফ্যামিলি কার্ডের প্রশিক্ষণ শুরু, সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

হোম » বরগুনা » বরগুনায় ফ্যামিলি কার্ডের প্রশিক্ষণ শুরু, সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার ● ৫ নভেম্বর ২০২৬


বরগুনায় ফ্যামিলি কার্ডের প্রশিক্ষণ শুরু, সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগসাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। তবে প্রশিক্ষণ শুরুর মধ্যেই সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের বাদ দিয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেই এবং কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষ নন, এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন পরীক্ষার্থী।

 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

 

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণে সদর উপজেলার বদরখালী, গৌরীচন্না ও ফুলঝুরি ইউনিয়নের দুইজন সুপারভাইজার এবং ৩১ জন তথ্যসংগ্রহকারীসহ মোট ৩৩ জন অংশ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

 

জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেন। পরে প্রশিক্ষণার্থীদের তথ্য সংগ্রহের উপকরণ হিসেবে ট্যাবলেট কম্পিউটার বিতরণ করেন তিনি। আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে।

 

অন্যদিকে, সুপারভাইজার নিয়োগের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কয়েকজন প্রার্থী। তাঁদের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সুপারভাইজার পদে আবেদনের জন্য স্নাতক (বিএ) পাস ও কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষতার শর্ত ছিল। তাঁরা এসব যোগ্যতা পূরণ করে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন ও পরীক্ষায় অংশ নেন।

 

অভিযোগকারীদের দাবি, পরীক্ষা নেওয়ার এক দিন পর আবেদন গ্রহণের সময়সীমা আরও তিন দিন বাড়ানো হয়। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে তাঁদের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়। পরবর্তী সময়ে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজনের নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। এমনকি তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন পরীক্ষার্থীরা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা বিজ্ঞপ্তির সব শর্ত পূরণ করে পরীক্ষা দিয়েছি। অথচ আমাদের বাদ দিয়ে যাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের কারও কারও বিএ পাসের সনদও নেই। আবার কেউ কেউ সাক্ষাৎকারেও অংশ নেননি। তাহলে আমাদের পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন কী ছিল? লোক দেখানো সাক্ষাৎকার না নিলেও পারতেন।’

 

অভিযোগকারী প্রার্থীরা নিয়োগপ্রাপ্তদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কম্পিউটার পরিচালনার দক্ষতা এবং নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

 

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সময়: ২০:৪৭:৪২ ● ১৭ বার পঠিত