বুধবার ● ৪ নভেম্বর ২০২৬
বিদ্যুৎ ছাড়াই চলবে ব্যাটারিচালিত গাড়ি, ঝালকাঠিতে গোলাম সাঈদের দাবি
হোম » ঝালকাঠী » বিদ্যুৎ ছাড়াই চলবে ব্যাটারিচালিত গাড়ি, ঝালকাঠিতে গোলাম সাঈদের দাবি
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ঝালকাঠি
ব্যাটারিচালিত গাড়ি চালাতে বাইরে থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না, এমন প্রযুক্তির একটি থ্রি-হুইলার তৈরি করেছেন ঝালকাঠির উদ্ভাবক গোলাম সাঈদ খান। তাঁর দাবি, চারটি ব্যাটারির বিশেষ সমন্বয়ে তৈরি গাড়িটি চলার সময়ই পর্যায়ক্রমে ব্যাটারি চার্জ হবে। ফলে আলাদা করে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
গোলাম সাঈদ খান জানান, গাড়িটিতে চারটি ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ব্যাটারির শক্তিতে গাড়ি চলবে, আর অন্য দুটি চার্জ হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকবে। প্রথম দুটি ব্যাটারির শক্তি শেষ হলে পরের দুটি দিয়ে গাড়ি চালানো হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে ব্যাটারি ব্যবহার ও চার্জ করার ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
দীর্ঘদিনের চিন্তা ও প্রচেষ্টায় এ প্রযুক্তি তৈরি করেছেন বলে জানান গোলাম সাঈদ। তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত বিভিন্ন গাড়িতে লাইট, ফ্যানসহ নানা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার হতে দেখে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, গাড়ি চলার পাশাপাশি ব্যাটারি চার্জ করা সম্ভব কি না। সেই ভাবনা থেকেই দীর্ঘদিন চেষ্টা করে প্রযুক্তিটি তৈরি করেন।
উদ্ভাবক জানান, প্রথম পর্যায়ে গাড়িটি তৈরি করতে তাঁর প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হলে প্রতিটি গাড়ি তৈরিতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। বর্তমানে নিজের পরিচালিত একটি ইংলিশ ভার্সন স্কুলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কাজে গাড়িটি ব্যবহার করছেন তিনি।
সরকারি সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে প্রযুক্তিটি আরও উন্নত করে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করতে চান গোলাম সাঈদ। তাঁর ভাষ্য, বহু বছর ধরে বাইরে থেকে চার্জ না দিয়েই ব্যাটারিচালিত গাড়ি চালানোর উপায় খুঁজছিলেন তিনি। নিজের উদ্ভাবন দেশের মানুষের কাজে লাগুক, এটাই তাঁর প্রত্যাশা।
থ্রি-হুইলার তৈরির আগেও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছেন গোলাম সাঈদ। তাঁর দাবি, ১৯৮৬ সালে তিনি দেশে প্রথম আইপিএস (ইনস্ট্যান্ট পাওয়ার সাপ্লাই) উদ্ভাবন করেন। এ উদ্ভাবনের স্বপক্ষে তাঁর কাছে সনদও রয়েছে।
তিনি বলেন, আইপিএস তৈরির জন্য দীর্ঘদিন সরকারি সহযোগিতা পেয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ দেশের বাইরে চলে যাওয়ার পর সেই সহযোগিতা বন্ধ হয়ে যায়। আইপিএস তৈরির পর কপিরাইট না করায় পরবর্তী সময়ে বাজারে আসা আইপিএস থেকে তিনি কোনো আর্থিক সুবিধা পাননি। উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম বলেন, গোলাম সাঈদ খানের উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ড এলাকায় আগ্রহ তৈরি করেছে। তাঁর তৈরি গাড়িটি দেখতে অনেকেই কৌতূহল প্রকাশ করছেন। প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা যথাযথভাবে পরীক্ষা করে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা দেওয়া হলে এটি নিয়ে আরও কাজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ঝালকাঠি সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমান বলেন, নিজের চিন্তা ও চেষ্টায় নতুন প্রযুক্তির এমন গাড়ি তৈরির উদ্যোগ প্রশংসনীয়। প্রয়োজনীয় গবেষণা, কারিগরি সহযোগিতা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে প্রযুক্তিটি আরও উন্নত করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং উদ্ভাবকের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ সময়: ৮:৫৬:৪২ ● ২১ বার পঠিত
