বুধবার ● ৪ নভেম্বর ২০২৬

দুবাইয়ে ১৩ বছরে ৫১ লাখ টাকা আয়, দেশে ফিরে এখন ঢাকায় রিকশাচালক

হোম » ঝালকাঠী » দুবাইয়ে ১৩ বছরে ৫১ লাখ টাকা আয়, দেশে ফিরে এখন ঢাকায় রিকশাচালক
বুধবার ● ৪ নভেম্বর ২০২৬


দুবাইয়ে ১৩ বছরে ৫১ লাখ টাকা আয়, দেশে ফিরে এখন ঢাকায় রিকশাচালকসাগরকন্যা প্রতিবেদক, রাজাপুর (ঝালকাঠি)

 

দীর্ঘ ১৩ বছর দুবাইয়ে প্রবাসজীবন কাটিয়ে প্রায় ৫১ লাখ টাকা উপার্জন করেছিলেন হাফেজ মোস্তফা ফরাজী। স্বপ্ন ছিল দেশে ফিরে স্ত্রীকে নিয়ে সংসার গড়বেন, কাটাবেন বাকি জীবন। সেই স্বপ্ন পূরণে প্রবাসের উপার্জিত অর্থ পাঠিয়েছিলেন স্ত্রীর কাছে। কিন্তু দেশে ফিরে সেই স্বপ্নের বদলে এখন নিঃস্ব হওয়ার অভিযোগ তাঁর। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় রিকশা চালিয়ে দিন কাটছে মোস্তফার।

 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজাপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের জীবনের এমন দুর্দশার কথা তুলে ধরেন তিনি। মোস্তফা মঠবাড়িয়া উপজেলার পাথরঘাটা জ্ঞানপাড়া এলাকার আব্দুল বারেক ফরাজীর ছেলে। বিয়ের পর রাজাপুরে বসবাস শুরু করেন তিনি।

 

লিখিত বক্তব্যে মোস্তফা অভিযোগ করেন, দুবাইয়ে অবস্থানকালে বিভিন্ন সময়ে স্ত্রী জোলেখার কাছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁর কাছে স্বর্ণালংকারও রেখেছিলেন। কিন্তু স্ত্রী ওই টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে আংগারিয়া আলগি এলাকার মো. সাইফুলের সঙ্গে চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে রাজাপুর পূবালী ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানান মোস্তফা।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজাপুরে তাঁর ১৩ শতাংশ জমি ১২ লাখ টাকায় বিক্রির কথাবার্তা হয়। দলিল রেজিস্ট্রির পর তাঁকে দেওয়া হয় ১০ লাখ টাকা। এ নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর স্ত্রীসহ ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা ও মারধর করেন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে মোস্তফা তাঁর উপার্জিত অর্থ ও ব্যাংক লেনদেনের নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির মালিকানা ও দলিল যাচাই, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

তবে মোস্তফার স্ত্রী জোলেখা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাগ করে তাকে তালাক দিয়েছি। তবে সে আগে বিয়ে করেছে, পরে আমি বিয়ে করেছি। আমি তার কোনো টাকা-পয়সা নিইনি।

বাংলাদেশ সময়: ৮:০৮:৫০ ● ২৫ বার পঠিত