মঙ্গলবার ● ৩ নভেম্বর ২০২৬

পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে বরগুনায় ক্ষোভ

হোম » বরগুনা » পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে বরগুনায় ক্ষোভ
মঙ্গলবার ● ৩ নভেম্বর ২০২৬


পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে বরগুনায় ক্ষোভসাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

পিরোজপুরে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননা (গার্ড অব অনার) প্রদানে বিঘ্ন ঘটানোর প্রতিবাদে বরগুনায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এ সময় জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।

 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বরগুনা জেলা প্রেসক্লাব চত্বরে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বরগুনা জেলা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পিরোজপুরে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানে বিঘ্ন ঘটানোর ঘটনায় তাঁরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। জীবন বাজি রেখে যাঁরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন, মৃত্যুর পর তাঁদের জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানে বিঘ্ন সৃষ্টি করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের আচরণ শুধু মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের প্রতি নয়, দেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের প্রতিও চরম অসম্মান।

 

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. ইউসুফ আলী মৃধা। বক্তব্য দেন বরগুনা জেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক সভাপতি এ জেড এম সালেহ ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুখরঞ্জন শীল, মো. হাবিবুর রহমান, মো. আবু হানিফ, জাহাঙ্গীর আলম, মো. মজিবর শরীফ, নজির আহমেদ ও হারুন অর রশিদ শিকদারসহ অন্য মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানেরা।

 

বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সম্পদ নন। তাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের অবদান দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে। তাই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাঁর জানাজা, দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা যথাযথভাবে সম্পন্ন করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।

 

সমাবেশে অভিযোগ করা হয়, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরসহ যেকোনো মহলের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা কিংবা তাঁদের রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে। একই সঙ্গে পিরোজপুরের ঘটনায় কারা জড়িত, কী কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং এর পেছনে পরিকল্পিত ভূমিকা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটনের দাবি জানান বক্তারা।

 

তাঁরা আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের জীবদ্দশায় যথাযথ মূল্যায়নের পাশাপাশি মৃত্যুর পরও তাঁদের প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। পিরোজপুরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা, দাফন কিংবা গার্ড অব অনার প্রদানে যাতে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫২:২৪ ● ৩৭ বার পঠিত