রবিবার ● ১ নভেম্বর ২০২৬
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাঁতী দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, ১৯ ঘণ্টায় খুলনায় নিহত ২
হোম » খুলনা » ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাঁতী দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, ১৯ ঘণ্টায় খুলনায় নিহত ২
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, খুলনা
খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নগরের আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ১৯ ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনায় দুজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটল।
নিহত হুমায়ুন কবির নগরের আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার সৈয়দ আনোয়ার আলীর ছেলে। খুলনা মহানগর বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান তাঁর দলীয় পদ নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যায় রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে নিজের রেস্তোরাঁয় বসে ছিলেন হুমায়ুন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় গণমাধ্যমকে বলেন, নগরের মোস্তফার মোড়ের দোকানদার আরাফাতের কাছ থেকে কয়েক দিন আগে একটি রেফ্রিজারেটর কিনেছিলেন হুমায়ুন। এর কিছু টাকা বকেয়া ছিল। রবিবার সন্ধ্যায় আরাফাত ও তাঁর ভাই বকেয়া টাকা চাইতে গেলে হুমায়ুনের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে তাঁরা ফিরে গিয়ে সহযোগীদের নিয়ে হুমায়ুনকে কুপিয়ে জখম করেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে নিহত ব্যক্তির অন্য কোনো পূর্ববিরোধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
এর আগে শনিবার রাত ১১টার দিকে নগরের লবণচরা এলাকার দরগা কাশেমিয়া মসজিদসংলগ্ন সড়ক থেকে শহীদুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, দু-তিন দিন পরপর বাড়িতে আসতেন শহীদুল। শনিবার বিকেলে বাড়িতে এসে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বের হন। পরে রাত ১১টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে সড়কের ওপর তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পুলিশের ভাষ্য, তাঁকে কুপিয়ে হত্যার পর সড়কে মরদেহ ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শহীদুল মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাও ছিল। পূর্বশত্রুতা অথবা মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি। কাউকে গ্রেপ্তারও করা যায়নি।
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২২ অক্টোবর ভোরে নগরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় তাওহিদুল ইসলাম (৩২) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন সন্ধ্যার পর জিন্নাহপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় খুশি (২৫) নামের এক গৃহবধূকে।
এ ছাড়া ২৯ মে নগরের সোনাডাঙ্গা থানার তমিজউদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লার একটি ভাড়া বাসায় বেবি বেগম (৬০), তাঁর নাতি শামীম ব্যাপারী (১৪) ও মুস্তাকিন (৪) খুন হন।
চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে খুলনায় গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ বিভিন্নভাবে ৭৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধের মতো কারণ রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৩:২৮ ● ৩১ বার পঠিত
