শনিবার ● ২৪ অক্টোবর ২০২৬
নিষেধাজ্ঞার মধ্যে খাদ্যসংকটে দশমিনার ২৭৭৫ জেলে
হোম » জেলে-মৎস্য » নিষেধাজ্ঞার মধ্যে খাদ্যসংকটে দশমিনার ২৭৭৫ জেলে
![]()
সঞ্জয় ব্যানার্জী, দশমিনা (পটুয়াখালী) থেকে
ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও সরকারি প্রণোদনার চাল পাননি পটুয়াখালীর দশমিনা সদর ইউনিয়নের ২ হাজার ৭৭৫ জন জেলে। উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নের জেলেরাও এখনো চাল পাননি। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তাঁরা। সময়মতো প্রণোদনার চাল না পেয়ে অনেকে পেটের দায়ে নদীতে মাছ ধরতে নামতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জেলেরা।
অন্যদিকে, নিবন্ধনের আওতায় আসতে না পারায় অনেক জেলে সরকারি প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিবন্ধিত জেলেদের শিগগিরই চাল বিতরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ সময়ে আইন অমান্য করে মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন জেলেদের পরিবার চালাতে সরকারি প্রণোদনা হিসেবে প্রত্যেক জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে সেই চাল না পাওয়ায় খাদ্যসংকটে পড়েছেন জেলেরা।
জেলেদের অভিযোগ, শুধু এবারই নয়, প্রতিবছরই স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও মৎস্য বিভাগের উদাসীনতার কারণে তাঁরা সময়মতো প্রণোদনার চাল পান না। মাছ ধরা ছাড়া অন্য কাজের অভিজ্ঞতা না থাকায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে বিকল্প আয়ের সুযোগও তাঁদের সীমিত। সময়মতো সহায়তা দেওয়া হলে এমন দুর্ভোগে পড়তে হতো না বলে মনে করেন তাঁরা।
দশমিনা সদর ইউনিয়নের একাধিক জেলে বলেন, ‘অনেক দিন ধরে অভিযান চলছে। সরকার আমাদের কোনো সাহায্য-সহযোগিতা করেনি। কোনো চাল বা কিছুই দেয়নি। তাই আমরা খুব অভাবে আছি। সরকার চাল দিলেও তো আমরা ভাত খেতে পারি।’
হাজির হাট এলাকার জেলেরা বলেন, ‘সরকার ২২ দিনের যে অভিযান দিয়েছে, তার আগেই চাল দিলে আমাদের অনেক ভালো হতো। চাল তো দেয়নি। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন না খেয়ে মরা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এর মধ্যে ঋণের কিস্তিও দিতে হয়। সরকার যদি আমাদের দিকে একটু দৃষ্টি দিত, তাহলে ভালো হতো।’
দশমিনা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, জেলেদের তালিকা হালনাগাদ ও শারদীয় ছুটির কারণে চাল বিতরণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে বলে আশা করছেন তিনি।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, সদর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে একাধিকবার চাল বিতরণের কথা বলা হয়েছে। তালিকা হালনাগাদ করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে চেয়ারম্যান তাঁকে জানিয়েছেন। তবে রবিবার চাল বিতরণ করা হবে বলে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৪:১২:৩০ ● ২৭ বার পঠিত
