সোমবার ● ১২ অক্টোবর ২০২৬
তালতলীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস
হোম » বরগুনা » তালতলীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনার তালতলীতে সাত ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে গুদামঘরের চুক্তিনামায় জাল স্বাক্ষর ব্যবহার এবং যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যের মতামত ছাড়াই তালিকা পাঠানোর অভিযোগে নিয়োগ বাতিল চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন কয়েকজন প্রার্থী। অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের জন্য গত ১৩ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে সাতটি ইউনিয়নে মোট ৭০ জন আবেদন করেন।
নিয়োগ যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য মো. মাহবুবুল আলম মামুনের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ সরকার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু জাফর তাঁর মতামত না নিয়েই নিজেদের ইচ্ছামতো তালিকা তৈরি করে জেলায় পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে নিয়োগ পাওয়া সিকদার এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুদামঘরের চুক্তিনামায় জাল স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
ডিলার নিয়োগের আবেদনকারী মিথিলা এন্টারপ্রাইজের মালিক মিলন, মৃধা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানা ও আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের মালিক ইব্রাহিম অভিযোগ করেন, পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া রকিবুল ইসলাম গুদামঘরের চুক্তিনামায় জালিয়াতি করে আবেদন করেছেন। তাঁদের দাবি, একটি চক্রের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গুদামঘরের মালিক স্বপন চন্দ্র শীল অভিযোগ করেন, রকিবুল ইসলাম নামের কারও সঙ্গে তিনি সার রাখার জন্য ঘর ভাড়া দেওয়ার চুক্তি করেননি। তাঁর স্বাক্ষর জাল করে চুক্তিনামা তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির শাস্তিও দাবি করেন স্বপন চন্দ্র শীল।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিকদার এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। আমি সঠিকভাবে আবেদন করে ডিলার নিয়োগ পেয়েছি।’
যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য মো. মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা আমার মতামত না নিয়েই তাঁদের ইচ্ছামতো তালিকা জেলায় পাঠিয়েছেন। কাদের নাম পাঠানো হয়েছে, তা আমার জানা নেই।’
তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সার ডিলার যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যসচিব মো. আবু জাফর বলেন, আবেদনকারীদের তালিকা জেলায় পাঠানো হয়েছে। তবে তালিকা তৈরির সময় কী করা হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। সিকদার এন্টারপ্রাইজের গুদামঘরের চুক্তিনামার বিষয়েও তিনি অবগত নন বলে জানান।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সার ডিলার বাছাই কমিটির সভাপতি অতীশ সরকার সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও তাঁর দল আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করেছেন। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতেই তালিকা জেলায় পাঠানো হয়েছে।
বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম মো. বদরুল আলম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ সময়: ১৪:৪৩:৪৩ ● ২৫ বার পঠিত
