রবিবার ● ১১ অক্টোবর ২০২৬
কালকিনিতে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম শুধু স্লোগানে, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মায়েরা
হোম » ঢাকা » কালকিনিতে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম শুধু স্লোগানে, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মায়েরা
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মাদারীপুর
‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’ - সরকারের এই স্লোগান বাস্তবায়নে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাঠপর্যায়ে সচেতনতা ও পরামর্শের ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক পরিবারে তিন থেকে চারটি সন্তান রয়েছে। কোনো কোনো পরিবারে এ সংখ্যা পাঁচ থেকে ছয়। এতে মায়েদের স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি বাড়ছে পরিবারের আর্থিক চাপ।
মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীদের নিয়মিত গৃহপরিদর্শন ও উঠান বৈঠক না করার অভিযোগ রয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে অনেক দম্পতি প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লামিয়া (২৩), মিনারা (২৮) ও দুলুফা (২৭) নামের কয়েকজন মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের অনেকে পরিবার ছোট রাখতে চান। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে সময়মতো পরামর্শ পান না বলে অভিযোগ তাঁদের। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে কী করণীয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার মতো স্বাস্থ্যকর্মী পাশে পান না বলে জানান তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে সচেতনতা ও তদারকির ঘাটতিতে কোনো কোনো পরিবারে সন্তানের সংখ্যা পাঁচ থেকে ছয়টিতে দাঁড়িয়েছে। এতে পরিবারের ব্যয় সামলানোর পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা ও লালন-পালন নিয়েও সংকট তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘন ঘন সন্তান জন্মদানের ফলে মায়েদের পুষ্টিহীনতা ও রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি গর্ভধারণ ও প্রসবসংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতাও দেখা দিতে পারে। তাই সন্তান জন্মের মধ্যে উপযুক্ত ব্যবধান রাখা এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সঠিক পরামর্শ ও সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও ওষুধের সংকট রয়েছে। তবে মাঠকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতন করার কথা। কেউ দায়িত্ব পালন না করলে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবার পরিকল্পনা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বিনা মূল্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও ওষুধের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ ও তদারকি কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৪:০৪:৫০ ● ২৭ বার পঠিত
